সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- নেপালে বন্যা: এক শিক্ষকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে যেভাবে বেঁচে গেল ৯০০ শিক্ষার্থী
- পুলিশের সামনে নারীকে লাথি দেওয়ার ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল
- ‘আইফোন কিনতে’ শিশুকে বিক্রির অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
- নেপালে বন্যা: বেঁচে ফেরা কয়েকজনের বর্ণনায় ভয়াল সেই দিন
পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে হিমালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হিমবাহগুলো ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ঘটনাগুলো আগে থেকে আঁচ করা কঠিন হলেও উষ্ণ পৃথিবীতে এ ধরনের দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি বাড়ছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের উত্তর ঢালে বুধবার এমনই এক বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। ফ্রান্সের ভূ-প্রকৃতিবিদ ক্রিস্টেন কুকের মতে, হিমবাহের নিচে থাকা পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। দ্রুতগতিতে নিচে পড়ার সময় বরফের একটি অংশ গলে যায় এবং পাথরের ধস সাময়িকভাবে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। এই ধ্বংসের স্রোত প্রায় ১৮০ কিমি গতিতে নিচে নেমে আসে এবং ১০০ কিমি দূরেও নদীর গতিপথ বদলে দেয়।
হিমালয় ছাড়াও নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও চিলিসহ বিশ্বের অনেক উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ রয়েছে। কোনো হিমবাহ উঁচু ফিয়র্ডে বা সমুদ্রখাঁড়িতে ভেঙে পড়লে মেগাসুনামি তৈরির আশঙ্কা থাকে। ২০২৩ সালে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে পাথর ও বরফের ধসে প্রায় ৬৫০ ফুট উঁচু ঢেউ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে আলাস্কার একটি ফিয়র্ডে প্রায় এক হাজার ৫৮০ ফুট উঁচু মেগাসুনামি সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। সুইজারল্যান্ডের আল্পসেও গত মে মাসে বার্চ হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ মোহন বাহাদুর চাঁদ জানান, হিমবাহের অবস্থান ও ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে ধসের পরিণতি বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগের রূপ নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, ঠিক কখন ও কত বড় পরিসরে নদীর প্রবাহ আটকে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পারমাফ্রস্টের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ায় পাহাড়ের বরফ ও পাথর ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হিমালয়ের ২১০টি হিমবাহের হ্রদ হঠাৎ বন্যা সৃষ্টি করে মানববসতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
হিমবাহ ধসের ঝুঁকি কমাতে সুইজারল্যান্ডের ব্লাটেনের উদাহরণটি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ১৯৯০-এর দশক থেকেই হিমবাহ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ফলে ২০২৫ সালে ধসের সময় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের মতো অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ শনাক্তকরণ, বিপদের মানচিত্র তৈরি এবং নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তবে হিমালয়ের বিশাল বিস্তৃতি ও দুর্গমতা এই কাজকে আল্পসের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। এর পাশাপাশি নদী ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) অঞ্চলের হিমবাহগুলো বর্তমানে দ্রুতগতিতে গলছে। ২০০০ সালের পর থেকে এই অঞ্চলে বরফ কমার হার দ্বিগুণ হয়েছে। আইসিমোডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের হিমবাহগুলোর মোট আয়তন প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। দুই মেরু অঞ্চলের বাইরে হিন্দুকুশ হিমালয়েই সবচেয়ে বেশি বরফের মজুত রয়েছে, যেখানে ৬৩ হাজার ৭০০টির বেশি হিমবাহ আছে। আইসিমোডের মহাপরিচালক পেমা গিয়ামতশো সতর্ক করে বলেছেন, এটি কোনো দূরের সমস্যা নয়, বরং আমাদের চোখের সামনে ঘটে চলা এক ভয়াবহ সংকট। হিমালয় এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে, যেখানে পানির অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিবেদনের লেখকেরা হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৫ সালকে আন্তর্জাতিক হিমবাহ সংরক্ষণ বর্ষ এবং ২০২৫-২০৩৪ সময়কে হিমাঞ্চলবিষয়ক বিজ্ঞানের জন্য কর্মদশক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাই মাসে বাংলাদেশ তার প্রাপ্ত বিদেশি ঋণের প্রায় তিন গুণ অর্থ পরিশোধ করেছে, যা অর্থনৈতিক চাপের একটি দিক নির্দেশ করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিনিয়োগই এখন সময়ের দাবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ যা পেয়েছে, তার প্রায় ৩ গুণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার হিমালয়ের একটি নদী উপত্যকায় হঠাৎ পানি, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোত নেমে এসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও মানুষকে ভাসিয়ে নেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকে আবার ঘন কাদার নিচে চাপা পড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ নজিরবিহীন হারে গলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাহাড়ের চূড়ায় ঝুলে থাকা হিমবাহ যথেষ্ট পরিমাণে গলে গেলে সেগুলো ভেঙে নিচের সবকিছুর ওপর আছড়ে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হিমালয়ই একমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল নয়।






