
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা 'ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস' আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৭৭ জন শ্রমিক ও অন্যান্য কর্মচারীসহ মোট ১৯০ জন কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। গত বছরও কারখানাটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছিল।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল হাসান ফয়সাল বিকেএমইএ-এর সদস্যদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যবসায়িক মন্দা এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার কারণে তিনি কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তাঁর মূল লক্ষ্য হলো কারখানার সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারদের দায় পরিশোধ করা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।
উদ্যোক্তার দীর্ঘ পথচলার শুরু ২০০৬ সালে, যখন তিনি পাঁচ অংশীদারকে নিয়ে মিরপুরে 'ম্যাট্রিক্স স্টাইল' নামে কারখানা গড়ে তোলেন। শুরুতে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করলেও পরে সরাসরি রপ্তানিতে যুক্ত হন। তবে অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে সেই উদ্যোগ আড়াই বছরের বেশি টেকেনি। এর আগে তিনি ট্রেডিং ও স্কিন প্রিন্টের ব্যবসা করেছেন। ২০০৯ সালে নিজের জমানো ২৬ লাখ টাকা দিয়ে পুরোনো মেশিন কিনে তিনি 'ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস' প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে লাইসেন্স ও আর্থিক জটিলতায় পড়লেও ২০১১ সালে রূপনগরে কারখানা স্থানান্তর করে তিনি ব্যবসায়িক গতি ফেরান।
রানা প্লাজা ধসের পর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলে ২০২২ সালের শেষ দিকে কারখানাটি বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে স্থানান্তর করা হয়। ২০২৩ সালে কারখানাটি থেকে প্রায় ৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ৪১ লাখ ডলারের পোশাক ফ্রান্স, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, হল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন ও ইতালিতে রপ্তানি হয়েছিল। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। মাহবুবুল হাসান জানান, মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হলেও ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। এর ওপর গ্যাস-সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে লিড টাইম কমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং অসহযোগিতার ফলে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ক্রয়াদেশ ছেড়ে দিতে হয়।
আর্থিক সংকটের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ২০২৪ সালে রপ্তানি নেমে আসে সাড়ে ২০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। গত বছর রপ্তানি আরও কমে ১৭ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। গত সাত-আট মাস শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে এবং কারখানার ভাড়া ৯ মাস বকেয়া পড়েছে। সাব-কন্ট্রাক্টিং করেও খরচ মেটানো সম্ভব হয়নি, উল্টো প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
বর্তমানে বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নিঃস্ব মাহবুবুল হাসান এখন কারখানাটি বিক্রির চেষ্টা করছেন। ১৯ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি অন্য কারও হাত ধরে বেঁচে থাকলে তিনি কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারখানাটিতে ১৭৭ জন শ্রমিক কাজ করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি নানান উপায়ে চেষ্টা করেছি, প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু ব্যবসায়িক মন্দার জন্যই না, কিছু মানুষের স্বার্থান্বেষী চেষ্টাতেও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।...সবার কাছে আমি দোয়া চাই, আমি যেন ফ্যাক্টরির একটা সুব্যবস্থা করে সমস্ত পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করে একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বার্তার সূত্র ধরে গতকাল দুপুরে মাহবুবুল হাসান ফয়সালের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ আলাপে তিনি তাঁর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা, নানা প্রতিকূলতা, ব্যবসার সুদিন এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে না পারার গল্প তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর আক্ষেপ, কোনো ব্যাংকঋণ ছাড়াই ১৯ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আবাসিক ভবনে কারখানা করায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাচ্ছিলেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে রপ্তানির অর্থ এলে ওই কারখানাগুলো তাঁর পাওনা আটকে দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০