হরমুজ প্রণালিতে একটি নৌযানে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় আটজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই হামলার ঘটনাটি ঘটলেও তা এতদিন অপ্রকাশিত ছিল। মার্কিন এনবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এনবিসি জানায়, পূর্বে অপ্রকাশিত এই হামলাটি ঘটে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই অঞ্চলে আমেরিকান বাহিনীকে লক্ষ্য করে ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি।
আহত আট সেনা সদস্যের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত মেরিন এবং একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই সময় তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার পর তারা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট এবং ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিসহ কনকাশনের উপসর্গে ভুগছিলেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আঘাতগুলো গুরুতর নয় এবং তারা দ্রুতই নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তারা ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট এবং সম্ভাব্য ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিতে ভুগেছেন এবং তাদের মধ্যে মাথাব্যথার মতো কনকাশনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, হামলার সময় এই মেরিন সেনারা মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। তবে তারা ঠিক কোন ধরনের নৌযান ব্যবহার করছিলেন বা এর মালিকানা কার, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। পেন্টাগনও শুরু থেকে এই হামলার বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ডেটাবেজ ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিসিএএস)-এর মাধ্যমে নিয়মিত সেনা হতাহতের তথ্য ট্র্যাক করা হয়। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই সংঘাতের ঘটনায় মোট ৮৬১ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। এই তালিকার সর্বশেষ সংযুক্তি হিসেবে ওই আট মেরিন সেনার নাম হামলার দশ দিন পর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের ডেটাবেজে হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়ে ধোঁয়াশা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ট্র্যাকিং সিস্টেমে তথ্য আপডেটে বিলম্ব এবং উপসর্গের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হওয়ার কারণে এমন অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এছাড়া জনসমক্ষে প্রকাশিত ডিসিএএস রেকর্ডে সেনারা ঠিক কোথায় বা কীভাবে আহত হয়েছেন, তার কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকে না।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ নামে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ইরানি বন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নৌ-অবরোধ বজায় রাখছে এবং নিয়মিত মাইন অপসারণসহ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানেসেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশও অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচল বাড়লেও ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জাহাজে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০