
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ড সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাঠামোর সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মোখা বন্দর দখলের পর বাব আল-মান্দাব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণের হুমকি এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৭০ জনকে আহত করার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকার পরিবর্তন ও সীমিত অংশগ্রহণের ফলে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রথম দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে চলতি বছরের আগস্ট মাসে তুরস্ক এই জোটে যোগ দেয়, যার ফলে গঠিত হয় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। রিয়াদে এই তিন দেশের একটি যৌথ সচিবালয়ও স্থাপিত হয়েছে, যার প্রাথমিক তিন বছরের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তান।
তবে চুক্তির কার্যকারিতা বা কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম এখনো অস্পষ্ট। কোনো সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বা কীভাবে অন্য সদস্যরা প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য নীতিমালা বা যুদ্ধের নিয়ম তৈরি হয়নি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট করেছেন, বিনা উসকানিতে সৌদি আরবে হামলা হলে বা ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হবে। তবে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি ন্যাটোর কাঠামোর আদলে কাজ করবে, যেখানে আক্রান্ত দেশকে সহায়তার ধরন নির্দিষ্ট করে অনুরোধ জানাতে হবে।
ন্যাটোর চতুর্থ অনুচ্ছেদের প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি এখানে তৈরি হতে পারে। ২০১২ সালে তুরস্ক যখন সিরিয়ার গুলিতে তাদের যুদ্ধবিমান হারানোর পর ন্যাটোর কাছে সহায়তা চেয়েছিল, তখন তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছিল। মক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও সৌদি আরব অনুরূপভাবে অস্ত্র বা গোয়েন্দা সহায়তার চাহিদা জানালে পাকিস্তান ও তুরস্ক তা বিবেচনার বাধ্যবাধকতায় পড়বে।
এখন পর্যন্ত সৌদি আরব কোনো দেশের কাছেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি কার্যকরের অনুরোধ জানায়নি। বরং পাকিস্তান বর্তমানে কূটনৈতিক উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পাকিস্তান প্রকাশ্যেই ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করার এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তায় হুমকি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সামরিক সক্ষমতার বিচারে সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া কয়েক হাজার পাকিস্তানি সেনা সেখানে কাজ করছে। যদিও আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, তবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি পাকিস্তানি সেনাদের অভিযান চালানোর সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।
ইসলামাবাদ আফগান যুদ্ধে জড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন। সরাসরি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আপাতত কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তায় বহুজাতিক নৌজোট গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। যতদিন পর্যন্ত যৌথ প্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া তৈরি না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কই মূল ভরসা হিসেবে কাজ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবের কয়েকটি শহরেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবের জ্বালানি, বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার পাশাপাশি ইরান ও হুথিদের সামুদ্রিক অবরোধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অঞ্চলটির প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরে বলে আসছে, নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধের বড় দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোকেই নিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সেই অবস্থানের বাস্তব প্রভাবও দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে এখন আর খুব বেশি অস্পষ্টতা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে ‘কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০