লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী করা এবং অঞ্চলটির ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কলম্বিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিন দিনের এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরু ভ্রমণ করবেন। কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত।
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও বোগোতার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ৪৮ বছর বয়সী এই কোটিপতি আইনজীবী গত জুনে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। এর আগে বামপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর আমলে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ উত্তেজনা ছিল। বারানকিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রুবিওর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর মাদক ব্যবসায় জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কলম্বিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া কলম্বিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন মাদক পাচারবিরোধী জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এও যুক্ত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মাদক-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
সফরকালে রুবিও গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৩৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ভূমিকম্পে স্কুল, হাসপাতাল ও বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট পুনর্গঠনকাজে সহায়তার জন্য শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসসহ বেশ কয়েকটি দেশ রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছে। এই দেশগুলোতে ডানপন্থি নেতাদের উত্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাচ্ছে, তা ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত। এটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নামের সমন্বয়ে গঠিত। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও এই আধিপত্যবাদী কৌশলের প্রতিফলন স্পষ্ট।
সফরের শেষ গন্তব্য পেরুতেও একই ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত রুবিওর এই সফর লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব সুসংহত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শহরটি কূটনীতির চেয়ে পপ তারকা শাকিরার জন্মস্থান হিসেবে বেশি পরিচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুনের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দে লা এসপ্রিয়েলা বামপন্থি প্রার্থীকে পরাজিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন প্রেসিডেন্ট পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন।





