সৌদি আরবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পথপরিক্রমা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত এই সংঘাতে দুজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশকেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ”।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে। কারণ নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।” তিনি এই পরিস্থিতির মানবিক ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবে বর্তমানে ৩০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এই সংঘাত বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করেছেন। শামা ওবায়েদ জানান, “ইতোমধ্যে কিছু প্রবাসী কর্মী তাদের কর্মসংস্থান হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। আবার অনেকে কর্মহীন অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।” এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দক্ষ ও বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিরা চাকরি হারানো ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। ”।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।” তিনি জানান, জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সক্রিয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনার জন্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তবে এখন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের বিঘ্নের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট হবে না।
সৌদি আরবে বারবার হুথিদের হামলা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ও রিয়াদের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের মোট ১০টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০