
৫ই আগস্ট ২০২৪-এ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুরো দেশ এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, যার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এই পরিবর্তনের ঢেউ থেকে মুক্ত ছিল না। গত দুই বছরে বিসিবি’র পরিচালনায় তিনজন ভিন্ন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শুরুতে ফারুক আহমেদ এবং পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিসিবি’র দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। বুলবুলের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেই সময়কালটি নানা বিতর্কে জর্জরিত ছিল। বিশেষ করে ভারতে বিশ্বকাপ বর্জন করার সিদ্ধান্তটি সেই সময়ের সরকার ও বিসিবি’র জন্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে নতুন সরকার গঠনের পর বিসিবিতে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তামিম ইকবাল সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এই নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ রাব্বানী জানান, বিগত ছয় মাসে বিসিবি’র সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের ১৮০তম দিনে বিসিবি’র বর্তমান পথচলা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিসিবি’র ওপর সরকারের কোনো অযাচিত প্রভাব নেই, বরং তারা সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই বোর্ডের মূল লক্ষ্য হলো এটিকে একটি ‘ক্রিকেটার-ফার্স্ট বোর্ড’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং জাতীয় দলের বাইরে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা।
বিসিবি’র কাজে গতি সঞ্চারের জন্য সরকার ও বোর্ডের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বর্তমানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক। মাঠ তৈরি এবং খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালুর মতো সরকারের উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। আসিফ রাব্বানী বলেন, ‘জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরি এবং ক্রীড়া ভাতা চালুর মতো সরকারের উদ্যোগগুলো অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকারের এই আন্তরিক সহায়তার কারণে বিসিবি এখন জেলা শহরগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে পারছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যের যে প্রধানমন্ত্রী নিজে একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজেও একজন তারকা খেলোয়াড় ছিলেন, তাই ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি তার বিশেষ টান থাকাটাই স্বাভাবিক। সরকারের এই আন্তরিকতার কারণেই বিসিবি’র দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সহজতর হবে। বিসিবি সভাপতি সারা দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো তৈরিতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবে অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তবে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিসিবি’র একার পক্ষে সম্ভব নয়, সেখানে সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অপরিহার্য। মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, বড় উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রে বিসিবি সরকারের কাছ থেকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে।
বিসিবি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হলেও সামগ্রিক ক্রিকেট উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের পাশে থাকাটা জরুরি। সরকারও বিশ্বাস করে যে রাজনীতি ও খেলাধুলা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিজস্ব গতিতে চললেও ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে বিসিবি এখনো আশাবাদী। আসিফ রাব্বানী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং খেলাকে রাজনীতির সঙ্গে মেলানোর কোনো কারণ নেই। সরকারের এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই এবং আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেটের দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রেও সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ বিসিবি তার সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য সরকারের সাথে এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে বোর্ড আশাবাদী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০