
দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরগুনায় সেই নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বাসভবন ও সরকারি দপ্তরেই দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। জেলা শহরের 'মায়া কুঞ্জ' নামক এলাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বাসভবনের চারপাশ ও সীমানা প্রাচীরে রাতভর রঙিন বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়, যা বিদ্যুৎ অপচয়ের শামিল।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ফটকেও। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সার্কিট হাউস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, পাসপোর্ট অফিস, সিভিল সার্জন কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে রাতভর বৈদ্যুতিক বাতি ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের করিডোরেও সারারাত শতাধিক বাতি জ্বলতে দেখা যায়।
সরকারি কর্মকর্তাদের এই বিদ্যুৎ বিলাস যখন চলছে, তখন সাধারণ ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নিয়ম না মানলে ব্যবসায়ীদের গুনতে হয় জরিমানা। গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস জানান, সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের সমাগম বাড়লেও সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির নেতা লাটিম অভিযোগ করেন, দোকান ভাড়ার উচ্চমূল্য এবং বিক্রির সময়সীমা নিয়ে ব্যবসায়ীরা এমনিতেই সংকটে আছেন, তার ওপর সরকারি দপ্তরের বিদ্যুৎ অপচয় তাদের হতাশ করছে।
বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়ে বরগুনা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, তার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নিজের দপ্তরের সামনে রাতভর বাতি জ্বলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমার জানা নেই।” অন্যদিকে, বরগুনার জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে সরকারি দপ্তরে বাতি জ্বালিয়ে রাখার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রিকশাচালক ফোরকান জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে রাস্তাঘাট অন্ধকার থাকায় রাতে দূরের যাত্রীদের নিয়ে যেতে ভয় পান তিনি। আরেক রিকশাচালক বশির দফাদার জানান, সম্প্রতি ভোররাতে যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং তার উপার্জিত ৩৮০ টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার ওসি আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, ছিনতাইয়ের মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বরগুনার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। বর্তমানে পৌর শহরে ওজোপাডিকোর ১৯ হাজার গ্রাহকের জন্য সাড়ে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এছাড়া ছয় উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৫৭ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা সরকারের নির্দেশ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করবেন, তারাই করছেন নিয়মের ব্যত্যয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠে মায়া কুঞ্জের চারপাশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শত শত লাল, নীল ও হলুদসহ নানা রঙের বৈদ্যুতিক বাতির সমাহারে সাজানো মায়া কুঞ্জ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাগানের সৌন্দর্য বর্ধন ও সীমানা প্রাচীরে রঙিন আলোয় জ্বলজ্বল করে চারপাশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুদ্রার এপিঠে বরগুনার সরকারি কর্মকর্তাদের বাস ভবনের চারপাশে যখন এমন বিদ্যুৎ বিলাস, তখন মুদ্রার ওপিঠের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরগুনা বাজার রাত ৮টার আগেই বেচাবিক্রি বাদ দিয়ে দোকান বন্ধের প্রস্তুতি নিতে হয় ব্যবসায়ীদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, তাদের বেচাবিক্রির সময় সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০