
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত জুন মাসে অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোনসকে। তাকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও চরম অপেশাদারিত্বের কারণে টুর্নামেন্ট চলাকালীনই তাকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয় ফেডারেশন। চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জোনস দাবি করেন, বাংলাদেশে তাকে ‘মৃত্যুর হুমকি’ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাফুফে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফেডারেশনের ভাষ্যমতে, জোনস নিজের অপেশাদার আচরণের দায় এড়াতে এখন এমন মিথ্যা দাবি করছেন।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, একজন পেশাদার কোচ হিসেবে যে ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখার কথা ছিল, জোনস তার কোনোটিই পালন করেননি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বেতন না পাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ফেডারেশনকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া মতিঝিলের ইউসিবি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে বেতনের টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে উগ্র আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সামান্য জটিলতায় হোটেলে পুলিশ ডাকার মতো নাটকীয় ঘটনা ঘটিয়ে তিনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। বাফুফে স্পষ্ট জানিয়েছে, জোনসের কাছে কোনো প্রমাণ নেই এবং তিনি যদি সত্যিই হুমকির শিকার হতেন, তবে ফেসবুকে প্রচার না করে আইনি আশ্রয় নিতেন।
অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে জোনসের বিরুদ্ধে। গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। এছাড়া উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে কোচ ও অধিনায়ককে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন করতে হয় বাফুফেকে, কারণ জোনস সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। গত ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। টুর্নামেন্টের বাকি সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন আতিকুর রহমান মিশু।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিপরীতে জোনস দাবি করেন, ফুটবলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, তাকে বাজে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। জোনস আরও বলেন, প্রায় দুই দশকের কাজের অভিজ্ঞতা মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে মুছে যেতে পারে না। তবে বাফুফে বলছে, বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মতান্ত্রিক পথ এড়িয়ে অনিয়মতান্ত্রিক আচরণ বেছে নিয়েছিলেন।
এর আগে ১০ আগস্ট ফেসবুকে এক পোস্টে জোনস দাবি করেছিলেন, বেতন না পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার সংকটে আছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই বাফুফের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বরং মাঠের বাইরে তার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং মাঠের পারফরম্যান্সে দলের ভরাডুবিই তাকে বরখাস্ত করার মূল কারণ হিসেবে দেখছে ফেডারেশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দুবছরের জন্য চুক্তি হলেও মাত্র দুই মাস পরই বরখাস্ত হলেন জোনস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আর চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে নিজের বিদায়ঘণ্টা নিজেই বাজালেন এই বিদেশি কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ঝামেলা পাকান এই ‘ক্র্যাক’ কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেননা, সিসিক্যামেরার ফুটেজসহ অনেক কিছুই রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রশ্ন হলো, সত্যি যদি এমন হতো, তাহলে ফেসবুকে না বলে আইনের আশ্রয় কেন নিলেন না এই বিদেশি কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেকোনো পেশাদার সংস্থায় আর্থিক কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলে সেটি সমাধানের একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাফুফের পক্ষ থেকে তার পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যার ফলশ্রুতিতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০