সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে তিনি ফেসবুকে দুটি ধারাবাহিক পোস্ট দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। পোস্টগুলোতে তিনি ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের নাম উল্লেখ করে নিজের মৃত্যুর জন্য তাঁকে দায়ী করেন এবং প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁর বাসায় উপস্থিত হন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক জানান, ওই রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ আমন্ত্রিত ছিলেন। বাসা থেকে বেরিয়েই তিনি ফেসবুকে ওই পোস্ট দেন। এরপর তাঁর অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়। শিল্পী রানী মোদক বলেন, তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না কেন এসিল্যান্ড এমন পোস্ট দিয়েছেন, কারণ তার ছয় মিনিট আগেও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছেন তিনি। এ বিষয়টি রাতেই জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, এসিল্যান্ডকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল। ওই সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওসির তথ্যমতে, এসিল্যান্ডের স্ত্রী এবং উপস্থিত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে প্রথমে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে আজ শনিবার সকালে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। দুপুর তিনটার দিকে তাঁদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এসিল্যান্ডের স্ত্রীর বরাত দিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, আরিফুর রহমান আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে তিন দিন আগে উপজেলায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেখার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ট্রমাগ্রস্ত ছিলেন। ওই মানসিক অস্থিরতার কারণেই তিনি পথচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং একজন আনসার সদস্যকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে, আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত আছেন। স্ত্রীসহ তিনি উপজেলা সদরে বাস করেন। বর্তমানে তাঁর সরকারি মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। তাঁর এই আকস্মিক আচরণ ও ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।






