
আসন্ন শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কর্মযজ্ঞ চলছে। এ বিশাল কার্যক্রমের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো ও বিতরণের অগ্রগতি বেশ সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিক স্তরে কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুর আর দুই মাস বাকি থাকায় বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছানো নিয়ে এখন থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয়: মাহদী আমিন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে পিডিআই বা প্রাক-সরবরাহ পরিদর্শনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই। বিপরীতে মাধ্যমিক স্তরের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রথম দফার দরপত্র অনুযায়ী, ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছাপার কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ বই। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো, নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই সরবরাহের হার এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ শতাংশের ঘরে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই।
এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপার কাজ শেষ করে তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের কাজে সামান্য বিলম্ব হলেও জানুয়ারির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে ২০১০ সাল থেকে বিনা মূল্যে বই বিতরণের ইতিহাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্ধারিত সময়ে শতভাগ বই সরবরাহ করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে অবশ্য সব বই পৌঁছাতে ফেব্রুয়ারির সাত তারিখ পর্যন্ত সময় লেগেছিল।
বইয়ের সংখ্যার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার বই ছাপানো হচ্ছে।
এর বাইরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ বই প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও পাঠ্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের বর্ণনা, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি যুক্ত করার পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায়ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।
শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই যুক্ত হতে যাচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ শীর্ষক বই দুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এগুলোর অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই এসব বই ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হবে, যদিও এখন পর্যন্ত এগুলোর মুদ্রণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০