সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পরিস্থিতি
- তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ
- পুলিশ-পোশাকশ্রমিক সংঘর্ষ: মিরপুরে বন্ধ ৩ মেট্রোস্টেশন চালু
- নিরাপত্তা সতর্কতা: সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজশিক্ষার্থী বাইরে থাকলে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ (চট্টগ্রাম রেঞ্জ)
- আইনি পদক্ষেপ: তাহসিফ হত্যা মামলায় তাসনিম দিশার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
- ক্রীড়া সংবাদ: সাফের আগে বাংলাদেশ দলের বড় ধাক্কা, রোনান সুলিভানের অনুপস্থিতি
ভারতের ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স)। আজ রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এই ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক রাজধানীতে সমবেত হচ্ছেন। সমাবেশের আগে রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির পোস্টারে ছেয়ে যায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের জমায়েত হতে দেখা যায়।
বিরোধী জোটের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আড়ালে ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী মতের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করেছে ইন্ডিয়া জোট। এ সময় তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা, ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি নির্দেশনায় কাজ করা।
এই প্রতীকী বিচারে সভাপতিত্ব করেন ভারতের লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার।
তিনি যে চেয়ারে বসে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সেটি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ব্যবহার করতেন।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা জানিয়েছেন, ভারতের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সাক্ষী এই চেয়ারে বসেই জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কংগ্রেসের গণমাধ্যম ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানান।
এদিকে, সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ট্রাফিক পুলিশ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে নেতাজি সুভাষ মার্গ টি-পয়েন্ট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জনসমাগমের কারণে যানজটের বিষয়ে আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। VIDEO | On INDIA bloc’s rally planned for today at Delhi’s Ramlila Ground, TMC leader Sagarika Ghose (@sagarikaghose) says, “This is going to be a very impactful and important rally, and the voice raised at Ramlila Ground will resonate in Parliament। The voice raised at the Ramlila rally must be carried into Parliament, and formal proceedings should take place during the Winter Session to ensure that Gyanesh Kumar is officially removed from his post through due proce। VIDEO | Bengaluru: Karnataka Chief Minister D K Shivakumar on the INDIA bloc’s march in Delhi, says, “It is the duty of the voters of this country to vote। Yesterday, we passed the impeachment motion। It has now been approved, and we believe the government can no longer protect Gyanesh Kumar। The government must also make efforts to determine how public trust in the electoral process, which has been broken, can be restored.” #ChaloDilli #VoteBachaoDeshBachao #RamlilaMarch। I wish the march goes ahead and achieves great success।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সাগরিকা ঘোষ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, রামলীলা ময়দানের এই আওয়াজ সংসদ পর্যন্ত পৌঁছাবে। তিনি শীতকালীন অধিবেশনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারকে দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান। একই সাথে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, কর্ণাটকসহ বিভিন্ন রাজ্যে লাখ লাখ ভোটারকে তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের এই আন্দোলনের বিপরীতে ক্ষমতাসীন বিজেপিও পাল্টা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তার মতে, এসব বক্তব্যই বিরোধীদের আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
দলটির পক্ষ থেকে হরিয়ানার রোহতক ও ফরিদাবাদে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও’ নামে পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
বিজেপি নেতাদের দাবি, বিরোধীরা ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থায় চিড় ধরাতে ষড়যন্ত্র করছে। বিজেপির বিবৃতি অনুযায়ী, তাদের এই কর্মসূচি নিছক কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং বিরোধীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক আদর্শিক প্রতিরোধ।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, যেকোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি দেশের স্বার্থ ও আইন মাথায় রেখেই পরিচালনা করা উচিত। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল দাবি করেছেন, এই গণসমাবেশে মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া দেখে সরকার ও শাসকদল বিচলিত বোধ করছে এবং সিইসিকে অপসারণ করা এখন সময়ের দাবি মাত্র। বেণুগোপাল বলেন, আন্দোলনকারীদের নৈরাজ্যবাদী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদকে সংসদের প্রতি অবমাননা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।






