
ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে রাশিয়া আগামী ২০২৭ সালের বাজেটে সামরিক খাতে নজিরবিহীন বরাদ্দ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে জমা দেওয়া খসড়া নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল বা প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ের জন্য করা পূর্বাভাস থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। এই বিশাল অংকের অর্থ দেশের মোট সরকারি ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুবল ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন হিসাব তার তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। গ্রোজোভস্কি ভাষায়, যথেষ্ট অর্থ নেই।
প্রতিরক্ষা খাতে এই বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে আনা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মূল বরাদ্দের তুলনায় ৫ শতাংশেরও বেশি অর্থ কাটছাঁট করা হতে পারে। এমনকি সরকারের ক্যানসারবিরোধী কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রায় ৯৭ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচিতে ৬ শতাংশের বেশি বরাদ্দ হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে দাঁড়িয়ে মস্কো প্রতিনিয়ত কিয়েভে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক ব্যয় বাড়লেও ২০২৮ ও ২০২৯ সালে তা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র মনে করেন, রাশিয়ার প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এই খাতের খরচের একটি বড় অংশ গোপন রাখা হয় এবং প্রকাশিত অংকগুলো কেবল অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার প্রাথমিক আলোচনার অংশ মাত্র। দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস একাধিকবার ছাড়িয়ে গেছে।
সরকারের ব্যয় সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে কলামিস্ট বরিস গ্রজোভস্কির বিশ্লেষণে। তিনি জানান, সরকারি কর্মীদের বেতন-ভাতা ও সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়নের মতো অবকাঠামো খাতেও ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ অবশ্য প্রতিরক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ উভয়কেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, কিন্তু কার্যত বাজেট ঘাটতি সামাল দিতেই বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের কাটছাঁট জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে সরকার কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালে এই ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের অনুমানের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।
আর্থিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জের মুখে সরকারি ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। ২০২৭ সালে রাশিয়ার সরকারি ঋণ জিডিপির ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার খুব বেশি নয়, তবুও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ‘নিরাপদ’ মাত্রার চেয়ে তা বেশি। একই সঙ্গে সরকারের মোট ঋণ নেওয়ার হার গত বছরের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রজোভস্কির মতে, সরকারের বার্তা স্পষ্ট—রাজস্ব ঘাটতির কারণে এখন কেবল সবচেয়ে জরুরি খাতগুলোই বরাদ্দ পাবে, তাই সরকারি বাজেটের ওপর ভরসা করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। রাশিয়ার খসড়া বাজেটের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০