রুপালি জগতের আলোর ঝলকানির পেছনের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে প্রায়ই কাস্টিং কাউচ ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ শোনা যায়। এবার নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ঘটা তেমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম হাটারফ্লাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, তার প্রথম সিনেমার পরিচালক তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন।
কুপ্রস্তাব ও নীতির প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে নীতি বলেন, “আমার প্রথম সিনেমার পরিচালক আরেকটি সিনেমার কাজের জন্য ফোন করেছিলেন। সিনেমার বিষয়ে আলোচনা শেষে তিনি বলেন, ‘এবারের সিনেমায় কাজ করতে হলে, তোমাকে আমার সঙ্গে শুতে হবে।’ বুঝতেই পারছেন, এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, তা বুঝে ওঠা অসম্ভব। আমি শুধু ফোন কেটে দিয়েছিলাম এবং তার নম্বর ব্লক করে দিয়েছিলাম। তারপর মাকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানাই।”
পরিচালকের এই অনৈতিক প্রস্তাবে নীতি এতটাই স্তম্ভিত হয়েছিলেন যে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিবাদ করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি জানান, ওই পরিচালককে এর আগেও অন্য নারীদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে দেখেছিলেন, কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটবে তা কল্পনাও করতে পারেননি। এই ঘটনার পর থেকেই চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় এবং তিনি আর সিনেমায় অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন।
চলচ্চিত্র ও ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপট
- ২০১২ সালে তেলেগু ভাষার ‘মেম বায়াসুকু ভাচাম’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় নীতি টেইলরের অভিষেক হয়। সিনেমাটি পরিচালনা করেন ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তানিশ।
- ২০১৩ সালে নীতি অভিনয় করেন ‘পেল্লি পুস্তকাম’ সিনেমায়, যা পরিচালনা করেন রামকৃষ্ণ মাচাকান্তি। তবে সিনেমাটি বক্স অফিসে খুব একটা সাফল্য পায়নি।
- ২০১৪ সালে মুক্তি পায় নীতি অভিনীত তৃতীয় ও শেষ তেলেগু সিনেমা ‘লাভ ডট কম’, যার পরিচালক ছিলেন রাজা ভান্নেম রেড্ডি। এই তিনটি সিনেমার পরই তিনি আর বড়পর্দায় কাজ করেননি।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিন্দি ধারাবাহিক ‘পেয়ার কা বন্ধন’-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে পথচলা শুরু করেন নীতি টেইলর। ২০১৪ সালে ‘কাইসি ইয়ে ইয়ারিয়া’ ধারাবাহিকে অভিনয় তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘বড়ে আচ্ছা লাগতে হ্যায় টু’সহ একাধিক জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিকে তাকে দেখা গেছে। সর্বশেষ রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ অংশ নিয়ে তিনি সেমিফাইনালিস্ট হয়েছিলেন। যদিও নীতি সাক্ষাৎকারে সরাসরি পরিচালকের নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তার প্রথম সিনেমা ‘মেম বায়াসুকু ভাচাম’-এর পরিচালক ছিলেন ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা। এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করার মধ্য দিয়ে তিনি বিনোদন জগতের অন্ধকার দিকটির বিষয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।



