
সাময়িক পতিত জমির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘সাময়িক পতিত জমিতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সূর্যমুখী তেল উৎপাদন এবং সূর্যমুখী খেতে মৌ চাষের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, সাময়িক পতিত জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে কৃষক, উদ্যোক্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গোপালগঞ্জ আরডিএ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নিয়মিত নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জন্য টেকসই বাজার সংযোগ তৈরি করা। তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার এই মডেল বাস্তবায়িত হলে দেশের তেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মধু চাষীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তিনি বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। আরডিএ গোপালগঞ্জের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহমুদুন্নবী বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপিত হবে, যা পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়ক হবে।
এই কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামসহ খুলনা ও বরিশাল জোনের উপ-পরিচালকবৃন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্রাক, প্রাণ-আরএফএল, এসিআই ও স্কয়ারের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা বরিশাল অঞ্চলের কলাপাড়া ও খুলনার পাইকগাছাকে সূর্যমুখী চাষের হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন এবং তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন সম্প্রসারণ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০