
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় প্রথমবারের মতো এক ঐতিহাসিক জয় নথিভুক্ত হলো। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে প্রতিনিধি পরিষদে যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। নির্বাচনে তিনি প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থী জোমো উইলিয়ামসকে পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফ্রো-লাতিনা মুসলিম হিসেবে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছেন তিনি। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নতুন কংগ্রেসের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এই রাজনীতিক।
শেভালিয়ের মূলত ডোমিনিকান অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং নিউইয়র্কেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পড়াশোনায় স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি করার উদ্দেশ্যে পড়াশোনা শুরু করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার পূর্বে তিনি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন; যার মধ্যে আইন সহকারী, তদন্তকারী, শিক্ষক এবং সমাজকর্মী অন্যতম। বিশেষ করে হারলেমের নেবারহুড ডিফেন্ডার সার্ভিসেসে তদন্তকারী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠন ফ্যামিলিজ ফর ফ্রিডমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই মূলত শেভালিয়েরের রাজনৈতিক উত্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই নির্বাচনে তিনি ২০১৭ সাল থেকে প্রতিনিধি থাকা দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করেন। প্রাথমিক লড়াইয়ে শেভালিয়ের অর্জন করেন ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট, যেখানে এসপাইয়াতের ঝুলিতে জমা পড়েছিল ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। দীর্ঘদিনের বর্ষীয়ান প্রতিনিধিকে হারিয়ে এই বিজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল রাজনীতিকদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে এসপাইয়াত ২০১৭ সাল থেকে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। শেভালিয়েরের এই জয়কে দলটির নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উত্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে শেভালিয়ের আবাসনসংকট, অভিবাসন নীতি, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক সমতার ওপর মূল দৃষ্টি দেন। তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই বন্ধ করা, সরকারি আবাসন খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার পক্ষে জোরালো অবস্থান প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি নিখরচায় শিশুযত্ন এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। তার প্রচারে বিনা মূল্যে শিশুযত্নের ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়েও বরাবরই সোচ্চার ছিলেন আভিলা শেভালিয়ের। ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে সংহতি শিবিরে যোগ দেন তিনি। প্রচারজুড়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং ইসরাইলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল। সেই সঙ্গে মার্কিন সীমান্তে অভিবাসী পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার নীতির বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে গেছেন। এই রাজনৈতিক সফরে তিনি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সক্রিয় সমর্থন লাভ করেন। তিনি আগে মামদানির প্রচারকাজেও সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০