
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলমান আসরের ‘ম্যাচ ডে ২’ যেন রেকর্ড ভাঙার মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ১৮টি ম্যাচে মোট ৭৮টি গোল হয়েছে, যা যেকোনো এক সপ্তাহের সূচিতে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল গত মৌসুমের ‘ম্যাচ ডে ৩’-তে, যেখানে ১৮ ম্যাচে ৭১টি গোল হয়েছিল। বর্তমান আসরে এখন পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে মোট ১৪৭টি গোল হয়েছে, যার অর্থ ম্যাচপ্রতি গোলগড় ৪.০৮, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ‘ম্যাচ ডে২’-তে মোট ১৮ ম্যাচে ৭৮ গোল হয়েছে। গত মৌসুমে ‘ম্যাচ ডে৩’-তে ১৮ ম্যাচে ৭১ গোলের রেকর্ড পেছনে পড়ল। চ্যাম্পিয়নস লিগে এক সপ্তাহের ম্যাচে (দুই দিনের সূচি মিলিয়ে) বা একটি ‘ম্যাচউইকে’ এটি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে ব্যক্তিগত অর্জনে বড় মাইলফলক ছুঁয়েছেন আর্লিং হলান্ড। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ৬০ গোল করার কীর্তি এখন নরওয়েজিয়ান এই তারকার। তিনি মাত্র ৬০ ম্যাচেই এই সংখ্যায় পৌঁছেছেন, যেখানে লিওনেল মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ, রবার্ট লেভানডফস্কির ৮৫, কিলিয়ান এমবাপ্পের ৮৯ এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৯৮ ম্যাচ। এছাড়াও ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কোটা পূরণ করে হলান্ড পেছনে ফেলেছেন মেসিকে (২৬ বছর ৮৬ দিন)। চ্যাম্পিয়নস লিগে এ নিয়ে ৬০ ম্যাচে ৬১ গোল হলো নরওয়ে তারকার।
কিলিয়ান এমবাপ্পেও বুধবার রাতে নিজের ক্যারিয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অষ্টম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। ২৭ বছর ২৯৮ দিন বয়সে এই রেকর্ড গড়ে তিনি টপকে গেছেন লিওনেল মেসিকে (২৮ বছর ৮৪ দিন)। শততম ম্যাচে গোল পাওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে শততম ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল রয়েছে কেবল মেসি (৭৭) ও লেভানডফস্কির (৮১)।
রিয়াল মাদ্রিদও নতুন এক ইতিহাস লিখেছে। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তারা ৫০টি ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে। এছাড়া ইতালির মাটিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ডও এখন তাদের দখলে। ২০১৬ সালে রোমার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গতকাল রাতেও ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে জোসে মরিনিওর শিষ্যরা। সাত মিনিটের ঝড়ে সাত গোলের এই ম্যাচে রিয়ালের জয় ছিল বেশ নাটকীয়।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। নিজেদের মাঠে ৪-২ গোলের এই হার চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির ইতিহাসে প্রথম, যেখানে তারা স্বাগতিক হিসেবে চার গোল হজম করেছে। ম্যাচের ৩২ মিনিটের মধ্যেই সিটি ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল, যা তাদের ইতিহাসে নিজেদের মাঠে প্রথমার্ধে হজম করা সর্বোচ্চ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে এর আগে আটবার তারা ঘরের মাঠে তিন গোল হজম করলেও চার গোল খাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০