পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়। গত ১৪ অক্টোবর বুধবার বিকেল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। ফলে বিহারে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতির ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে এ সিদ্ধান্তের পর বিহার পরিদর্শনে গিয়ে ফিরে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার সকালে। বিহারের সীমানার ভেতর একটি দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেছিল কর্তৃপক্ষ। বিহারের পরিবেশ রক্ষার জন্য এবং এলাকা পরিষ্কার রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম ঘটনাস্থলে এসে জমি নিজেদের দাবি করে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত করেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। এই ঘটনার পর গতকাল মংলাচিন মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৌদ্ধবিহারের সামনে থাকা দোকানিরা বিহারের সীমানার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশদূষণ করে আসছিলেন।
মংলাচিন জানান, শতবর্ষী এই বিহারের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে কিছু জমি ভুলবশত বিএস জরিপে অন্যদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে গেছে। অথচ জমিগুলো আসলে বিহারের মালিকানাধীন। কেবল বিএস জরিপের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয়রা দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, অভিযুক্ত নাসির হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হামলার ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বৌদ্ধ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমং তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামসুল আলম ও নাসিরের মতো ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিহারের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। অপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিহার সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলে তিনি জানান। পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি ||।
বর্তমানে মহিপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার। উল্লেখ্য, এই বিহারে অষ্টধাতুর তৈরি ৩৭ মণ ওজনের গৌতম বুদ্ধের একটি বিশাল মূর্তি রয়েছে, যা দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ভিড় করেন।






