নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় দায়ের করা একটি চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। মামলার প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। এমন আইনি জটিলতার মধ্যেও তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তির কোটায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির সদস্য হন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ১০ মে আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করেন হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক সুমন চন্দ্র নাথ। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার কালাবাহাদুর বাজার-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও কোমল পানীয় জব্দ করে কোস্টগার্ড। এসব পণ্য মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। মামলার তালিকাভুক্ত আসামিরা হলেন তিনিসহ সাতজন আসামির নাম রয়েছে গত ১০ মে আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্রে। আদালতে দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে যুবদল নেতা বেলাল হোসেনের (৪৫) নাম রয়েছে ৭ নম্বরে। বাকি ছয় আসামি হলেন মো. হান্নান (৪৯), ইকবাল হোসেন (১৯), মো. রাশেদ রহমান (৫৫), আইয়ুব নবী (৩৯), মাহে আলম (৪৫) ও এনায়েত উল্যাহ প্রকাশ এনাম মেম্বার (৪০)। এসব মালামালসহ চারজনকে আটক করে কোস্টগার্ড। মামলার এজাহার ও সাক্ষীদের জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় নৌকাটিতে প্রায় ৭০০ বস্তা সিমেন্ট এবং প্রায় ৪০০ ক্যারেট কোমল পানীয় ছিল।
- নাম রয়েছে ৭ নম্বরে। বাকি ছয় আসামি হলেন মো. হান্নান (৪৯), ইকবাল হোসেন (১৯), মো. রাশেদ রহমান (৫৫), আইয়ুব নবী (৩৯), মাহে আলম
- ও এনায়েত উল্যাহ প্রকাশ এনাম মেম্বার
- এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থল থেকে কোস্টগার্ডের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, যুবদল নেতা বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানার পরপরই তাঁকে সরকারি কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগে থেকেই তিনি ওই সব কমিটির সদস্য ছিলেন।
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বেলাল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি ২০০৯ সাল থেকে সিমেন্ট ও রড ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর কাজ কেবল পণ্য সরবরাহ করা। তিনি আরও বলেন, মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সম্পর্কে আগে কোনো ধারণা ছিল না। জানলে তিনি কোনোভাবেই সরকারি অনুষ্ঠানে যেতেন না। বুধবার তিনি নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহদাত হোসেন তাঁর জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি পেশায় খাসেরহাট বাজারের একজন রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, দুই দিন আগে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ পৌঁছায়। এদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। বেলাল হোসেন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন বলে পরিচিত। ২০১১-১৬ সাল পর্যন্ত একই ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।





