
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েকদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের ওয়াশরুম, নিচতলা এবং আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলোতে সাপের এমন নিয়মিত উপস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সর্বশেষ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শহীদ তিতুমীর হলে ময়লা পরিষ্কারের সময় একটি সাপ দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। একই দিন রাতে হলটির তৃতীয় তলার ৩১৬ নম্বর কক্ষের পাশের ওয়াশরুমে একটি বিষধর গোখরা সাপ দেখা যায়। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিজয় দিবস হলের একটি ওয়াশরুমে সাপ দেখা গিয়েছিল। এমনকি তার পাঁচ দিন আগেও একই হলের ওয়াশরুমে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস হলের নিচতলাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও নিয়মিত সাপের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ধারণা, হলের আশপাশে দীর্ঘদিন জমে থাকা আগাছা ও ঝোপঝাড় সাপের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সম্প্রতি এসব ঝোপঝাড় ও গাছপালা পরিষ্কার করায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সাপগুলো আবাসিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছে। শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ তারেক জানান, হলের আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পর থেকেই সাপের উপদ্রব বেড়েছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল এলাকা ভালোভাবে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক মো. নাছির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে এস্টেট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হলের আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের পর সাপগুলো ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
এদিকে ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য কোনো অ্যান্টিভেনম নেই। এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে প্রায়ই সাপ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনম না থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগের। রাতে কোনো শিক্ষার্থী সাপে কাটলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কিত।
মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনম না থাকার বিষয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউকে সাপে কাটার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, সাধারণত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে অ্যান্টিভেনম রাখা হয় না এবং এখানে তা সংরক্ষণ করাও কঠিন, কারণ এটি প্রয়োগের জন্য বিশেষ চিকিৎসা-সুবিধা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া অ্যান্টিভেনমের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ খুব কাছেই অবস্থিত, তাই কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে দ্রুত সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একের পর এক হলে সাপ পাওয়ায় আমরা এখন খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশা করছি, প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মেডিকেল সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০