
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন পরামর্শের নামে প্রতারণা ও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে তিন নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির অভিবাসন এজেন্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। মূলত নিবন্ধিত এজেন্টের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের দিয়ে অভিবাসনসংক্রান্ত কাজ করানোর এই প্রবণতাকে ‘ফ্রন্ট এজেন্ট’ কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের ভাষ্যমতে, অভিবাসন পরামর্শ খাত থেকে অসাধু ব্যক্তিদের সরিয়ে দিতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একজন গ্রাহক যখন একজন মাইগ্রেশন এজেন্টকে অর্থ প্রদান করেন, তখন তার স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে যে তার কাজটি একজন যোগ্য ও নিবন্ধিত পেশাজীবীই সম্পন্ন করবেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন এজেন্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের বিশেষ পর্যবেক্ষণ দলটি গত বছরের অক্টোবরে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই দলটি ৮৫ জন নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘনের ৪৩টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়, যার বিপরীতে শিক্ষা প্রদান, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করে ২৮ জন নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা তিনটি পৃথক ঘটনায় দেখা গেছে, নিবন্ধিত এজেন্টরা তাদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের অভিবাসন সহায়তা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। প্রথম ঘটনায়, তিনটি ব্যবসায়িক ইমি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা দেওয়া শত শত ভিসা আবেদনে অনিবন্ধিত ব্যক্তিরা সহায়তা দিয়েছেন অথবা নিবন্ধিত নন এমন কর্মীরা প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন; এর জেরে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায়, একজন মাইগ্রেশন এজেন্টকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, যিনি তদন্তে স্বীকার করেছেন যে তার ছেলে—যিনি নিবন্ধিত এজেন্ট নন—ব্যবসায়িক কাজে সহায়তা করেছেন। এছাড়া গ্রাহকদের কাছে জাল বিভাগীয় চিঠিপত্র পাঠিয়ে ভিসার আবেদন জমা হয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। তৃতীয় ঘটনায়, আরেক এজেন্টকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, যিনি জেনেশুনে ব্যবসার অন্য এক পরিচালককে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। ওই পরিচালক তখনো নিবন্ধিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন।
অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট, নির্দিষ্ট আইনজীবী বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ আইনত অভিবাসন সহায়তা দেওয়ার অধিকারী নন। অন্য কাউকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করতে দেওয়া বা অনিবন্ধিত ব্যক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের কাজ করানোকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও শাস্তির মুখে পড়া তিন এজেন্টের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো পেশাতেই নিবন্ধিত পেশাজীবীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্য কেউ ব্যবহার করবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। অভিবাসন এজেন্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসৎ ব্যক্তিদের শনাক্ত করে এই পেশা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, অধিকাংশ এজেন্ট সততার সঙ্গে কাজ করলেও একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ব্যক্তিগত লাভের জন্য অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০