
রুপালি জগতের চাকচিক্য আর গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা অভিনেত্রীদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, বাইরে থেকে এই পেশাকে রাজপ্রাসাদের মতো মনে হলেও ভেতরে এটি অনেকটা ধাঁধার ঘরের মতো। আজ যে তারকাকে ঘিরে মানুষের করতালি আর প্রশংসা, কাল হয়তো সেই মানুষটির খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ থাকে না।
অভিনেত্রী হওয়ার সুবিধা ও অসুবিধার কথা বলতে গিয়ে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, এই পেশার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের ভেতরের কষ্ট আড়াল করে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে অভিনয় করা। মন খারাপ থাকলেও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ঝলমলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, আজ যারা খুব আপন মনে হয়, কাল তারাই হয়তো ফোন ধরেন না। আজ যাকে সবাই অসাধারণ বলছে, কাল হয়তো তাকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়।
ঢাকাই সিনেমার প্রয়াত নায়ক মান্নার একটি উক্তি স্মরণ করে অপরাজিতা বলেন, চলচ্চিত্র জগতকে মান্না পৃথিবীর সবচেয়ে স্বার্থপর জায়গা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তার মতে, এখানে প্রেম, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের মতো আবেগগুলো প্রায়ই মেকি বা বাণিজ্যিক হয়ে থাকে। একই সুর শোনা গেল মেরিলিন মনরোর উদ্ধৃতিতেও। হলিউড সম্পর্কে মনরোর মন্তব্য ছিল, সেখানে একটি চুম্বনের জন্য হাজার ডলার দেওয়া হলেও আত্মার মূল্য মাত্র পঞ্চাশ পয়সা। এই উক্তি টেনে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, সবাই কেবল বাইরের আলোটুকু দেখে, কিন্তু সেই আলো জ্বালাতে যে বিদ্যুতের বিল গুনতে হয়, তা খুব কম মানুষই জানে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে ‘শিমুল পারুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে অপরাজিতা আঢ্যর। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে তিনি ‘চুপ কথা’, ‘গয়নার বাক্স’, ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’, ‘বেলা শেষে’, ‘প্রাক্তন’ এবং ‘সমান্তরাল’-এর মতো দর্শকপ্রিয় ও প্রশংসিত সব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০