সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পরিস্থিতি
- যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ‘ভয়াবহ ক্ষতির’ মুখে পড়বে পুরো অঞ্চল: হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
- গাজা ও লেবাননে ২৫৪টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করেনি আইডিএফ: বিবিসি ভেরিফাই
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের ১২ কোটি টাকার মানহানি মামলা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশটির পাঁচজন শীর্ষ বিরোধী নেতা একটি জোটবদ্ধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এক রুট, এক কোম্পানি: ৬ রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল শুরু ১ নভেম্বর। আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৬ ডিসেম্বর। দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।
আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর তারা একটি ‘অনাক্রমণ’ চুক্তিতে সম্মত হন। টাকা দিয়ে ভোট দেওয়ার লড়াইয়ে মেসির চেয়ে অনেক এগিয়ে রোনালদো।
তেল আবিবে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির প্রধান আভিগদর লিবারম্যান অংশ নেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল ও দুই ভাতিজা নিহত হন। ৫৪ বছর বয়সী বেনেট জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ৬২ বছর বয়সী লাপিদ রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে নেতারা উল্লেখ করেছেন, আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও একটি দায়িত্বশীল সরকার গঠন এবং রাষ্ট্র সংস্কারই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে এই জোটের স্থায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে আভিগদর লিবারম্যান এরই মধ্যে অভিযোগ করেছেন যে, আইজেনকোট বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকার গঠনের পর নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে। ‘সামান্য’ দুর্নীতি মামলা এড়াতে যুদ্ধ বাধিয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের ইরান চুক্তির কারণে কেন রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ার গোলান ছাড়া জোটের অন্য সদস্যরা মূলত ডানপন্থি রাজনীতির অনুসারী। লন্ডনের কিংস কলেজের বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যান জানান, এই নেতাদের মূল বৈরিতা নেতানিয়াহুর দুর্নীতির অভিযোগ এবং অতি ডানপন্থি দলগুলোর ওপর তার নির্ভরশীলতার কারণে। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন কিংবা গাজা যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে তাদের কারোই তেমন স্পষ্ট বা ভিন্নধর্মী প্রতিশ্রুতি নেই। নেতানিয়াহুর বিকল্প হতে চান ইসরায়েলের যেসব রাজনীতিক। ভবিষ্যৎ সরকারে কে নেতৃত্ব দেবেন এবং নেতানিয়াহুর সরকারের তুলনায় নীতিগতভাবে কতটা পরিবর্তন আসবে, তাও স্পষ্ট নয়। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাসহ মূল সমস্যাগুলো নিয়ে তারা কথা বলতে চান না। তার মতে, ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ তার শর্ত কোনো আরব দলই মেনে নেবে না। ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নেতানিয়াহুর দুই সরকারের মধ্যবর্তী সময়ে তারা সম্মিলিতভাবে ১৮ মাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কেউই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানকে অগ্রাধিকার দেননি বা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেননি।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট ২০২২ সালে বেনি গান্তজের ন্যাশনাল ইউনিটি জোটের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
২০২৪ সালের জুনে যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকার অভিযোগে মন্ত্রিসভা ছাড়ার পর তিনি মধ্যপন্থি ‘ইয়াশার’ পার্টি গঠন করেন।
আইজেনকোট যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
এদিকে, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ ‘বেয়াচাদ’ নামে যৌথ নির্বাচনী জোট গঠন করেছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ বেয়াচাদ নামে যৌথ নির্বাচনী জোট গঠন করেন।
বেনেট অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং লাপিদ তাকে ‘সৎ ডানপন্থি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জোটের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি নেতা আভিগদর লিবারম্যান অতীতে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ থাকলেও বর্তমানে তার কঠোর সমালোচক। তিনি হামাসকে অর্থায়নসহ সরকার পরিচালনার বিভিন্ন নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। গাজা ও লেবাননের বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই সামরিক অভিযানের পক্ষে। বিশ্লেষক শাইল বেন-এফ্রাইমের মতে, লিবারম্যানের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি পুনরায় ডানপন্থি জোটে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না।
জোটের একমাত্র বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান সামরিক কৌশলের পাশাপাশি কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়েও সরব। তিনি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশলহীনতাকে সামরিক ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থাকলেও, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক অযোগ্যতার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মূলত, নিরাপত্তা ও সংঘাত প্রশ্নে চরম মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার স্বার্থেই এই নেতাদের এক ছাতার নিচে আসার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েলের রাজনীতি। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকার করা কিংবা সেখানে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার করার বিষয়েও তারা একমত নন। এমনকি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, কাতার ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেননি। হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসম শক্তি প্রয়োগ এবং বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার কৌশল ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর গঠিত যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন তিনি। পেশাদার সরকার, অতি-গোঁড়া ইহুদিদেরসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের পক্ষে তিনি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় আলোচনাকে গত জুনে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ থেকে দূরে গড়ে ওঠা সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করেন।






