ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পোর্টসমাউথের মাঠে ৩-২ গোলে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে এই হারের চেয়েও ফুটবল বিশ্বে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ড। বুধবারের এই ম্যাচে ফ্র্যাটন পার্কে শেফিল্ড ৫৪ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিফেন্সের ভুলে পরাজয় এড়াতে পারেনি দলটি। তবে ডিফেন্সের ভুল আর শেষ মুহূর্তের গোল সব ওলোটপালোট করে দেয়।
ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ ভাগে। ৪৪ মিনিটে চেলসি থেকে ধারে পোর্টসমাউথে খেলা উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউলের দায়ে হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে, ফলে পুরো একটি অর্ধে ১০ জন নিয়ে লড়াই করতে বাধ্য হয় শেফিল্ড। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচ খেলে কোনো গোল পাননি হামজা। ফলে প্রায় পুরো একটি অর্ধে ১০ জন নিয়ে লড়তে বাধ্য হয় শেফিল্ড। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসেছেন শেফিল্ড বস ওয়াইল্ডার।
ম্যাচ শেষে শেফিল্ড বস ক্রিস ওয়াইল্ডার রেফারির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় যখন নাটমেগ করার চেষ্টা করছিলেন, তখন হামজার সাথে ধাক্কা লেগে তিনি পড়ে যান। ওয়াইল্ডারের ভাষায়, ‘হামজা কোথায় যাবে? সে কি অদৃশ্য কোনো চরিত্র যে হুট করে মিলিয়ে যাবে?’ তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রথমে রেফারি হামজাকে কার্ড না দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। এছাড়া পেনাল্টি বক্সে শেফিল্ড খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার মতো স্পষ্ট ঘটনায় রেফারি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ওয়াইল্ডার। পরাজয়ের চেয়ে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন চারদিকে চলছে মূল আলোচনা। সেখানে হামজার সরে যাওয়ার বা অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো ন্যূনতম সুযোগই ছিল না।
কোচ ওয়াইল্ডারের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিকতাহীন ও অসম সিদ্ধান্তগুলো দলের জয়ের সম্ভাবনা নষ্ট করে দিয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে লিগ টেবিলে শেফিল্ডের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। ১০ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে দলটি। রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এই কোচ মনে করছেন, এমন অবিচার শেফিল্ডের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।






