প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) মায়ের পৈতৃক জেলা ফেনী সফর করবেন তারেক রহমান। এদিন তিনি জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। মা বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক নিবাস ফুলগাজীর শ্রীপুর হওয়ায় এই সফরকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সফর নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ১ অক্টোবর তিনি ফেনীতে আসছেন। নির্ধারিত কার্ডধারীদের জন্য থাকবে ইয়েলো জোন।
ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে স্থানীয়দের প্রত্যাশা অনেক। বিশেষ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়েও মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এসব দাবির বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচিও রয়েছে তার। এরই মধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানিয়েছেন, সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোনে শুধুমাত্র বিশেষ কার্ডধারীরা প্রবেশ করতে পারবেন। এসএসএফ, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পুলিশের পক্ষ থেকেই পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তবে সব মিলিয়ে কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।





