ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সেনাদের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বিবৃতিতে তিনি সাহাবায়ে কেরামদের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পবিত্র ভূমি রক্ষা এবং দেশের সীমানা সুরক্ষায় আত্মত্যাগ একটি মহৎ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রাণ উৎসর্গ করাও এর অংশ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এ দায়িত্ব পালনে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।
সীমান্তে দায়িত্বরত সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সামরিক কমান্ডার ও শাসকদের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা জরুরি। সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। হুথিদের কবল থেকে ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে রক্ষা করা এবং বিদ্রোহীদের পরাজিত করা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন। হুথিদের পরাজয়ের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং তাদের সহযোগীদেরও নিন্দা জানান। ওই বার্তায় কোরআনের আয়াত এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ত্যাগ ও আল্লাহর পথে সংগ্রাম-সংক্রান্ত হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর জবাবে সৌদি বাহিনী পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, হুথিরা মক্কায় হামলার মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুথিদের হামলার কথিত ফুটেজও প্রচার করা হয়েছে। গ্র্যান্ড মুফতি তার বিবৃতিতে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী হিসেবে তাদের অভিহিত করেন। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা ও সংঘাত বেড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাবে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।






