চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির নতুন কোচিং জমানার শুরুটা মোটেই সুখকর হলো না। উয়েফা নেশনস লিগের লড়াইয়ে আউসবুর্গে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে জার্মানরা। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে জার্মানির বিপক্ষে ১১বার মুখোমুখি হওয়ার পর এটি গ্রিসের ঐতিহাসিক প্রথম জয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৪১তম স্থানে থাকা গ্রিস জার্মানির মাটিতে এমন জয় তুলে নিয়ে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়েছে।
ম্যাচজুড়ে জার্মানি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ সময়। এরপরও গোলের দেখা পাওয়া হয়নি স্বাগতিকদের। পুরো ম্যাচে ক্লপের শিষ্যরা ১৬টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র ৫টি। অন্যদিকে গ্রিস রক্ষণভাগে দারুণ শৃঙ্খলা দেখিয়ে জার্মানির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে দিমিত্রিয়োস কুরবেলিস বক্সের সামনে থেকে বাঁ পায়ের যে শটটি নেন, তা জার্মানির এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই একটি গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয়। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে দিমিত্রিয়োস কুরবেলিসের বক্সের মাথা থেকে নেয়া বাঁ পায়ের শট জার্মানির এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ালে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। বিপরীতে, নিখুঁত রক্ষণ জমাট রেখে গ্রিস ম্যাচজুড়ে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, আর তাতেই বাজিমাত।
ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা গোপন করেননি জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি আমরা বড় ব্যবধানে না জিতলেও বা ড্র করলেও মেনে নেওয়া যেত, কিন্তু এভাবে হেরে যাওয়াটা হতাশাজনক।’ ক্লপ এই হারকে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন এবং ২০২৮ ইউরোকে লক্ষ্য করে দলের সঠিক কাঠামো দাঁড় করানোই এখন তার মূল চ্যালেঞ্জ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর এই হারে ‘এ’ লিগের দুই নম্বর গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকে বাদ পড়ার পর ক্লপের অধীনে টানা দুটি ম্যাচ জয়হীন থাকল জার্মানরা। তবে এখনই অতিরিক্ত হতাশ হতে নারাজ সদ্য দায়িত্ব নেয়া জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচটি আমরা বড় ব্যবধানে না জিতলেও, এমনকি জিততে না পারলেও আমি মেনে নিতে পারতাম।
এদিকে দলের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মানির সাবেক অধিনায়ক বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন যে, জার্মানি এখন আর শীর্ষ দল নেই বরং মাঝারি মানের দলে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দল প্রতিপক্ষের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সমালোচনা ও হারের ধাক্কা সামলে আগামী ১লা অক্টোবর মিউনিখে সার্বিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে ক্লপের দল। নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।




