ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত তিন বছরের ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও নিরন্তর বোমাবর্ষণের ফলে জনপদগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজা সিটির তাল আল-হাওয়ার মতো এলাকাগুলো, যা একসময় মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত, এখন জনশূন্য। জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান জানান, এলাকা পরিষ্কারের কাজ অনেকটা চামচ দিয়ে সমুদ্র সেঁচে খালি করার মতো দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসার ও ক্যারিয়ারের সফলতার শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন ডা. আঁচল।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ জমেছে। সংস্থাটির বিশেষ প্রতিনিধি জাকো সিলিয়ার্স জানিয়েছেন, গত ১৮ বছরে বিশ্বের অন্যান্য যুদ্ধে সৃষ্ট মোট ধ্বংসস্তূপের তুলনায় এটি প্রায় ২০ গুণ বেশি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরাতে ৭ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে এবং এর জন্য প্রয়োজন কোটি কোটি ডলার। আদাবরে ভবন দখলচেষ্টা: দেড় বছরে দেড় কোটি টাকা আদায় করেছিল একই দখলদার গ্রুপ। ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৬। ‘আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করা বিশেষ কিছু,’ মোহামেডানের কোচ ভারেলা। দুপাশে ছিল বাড়িঘর, অফিস ও দোকানপাট। গুঁড়িয়ে দেওয়া দোকানপাট ও ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষে ছড়িয়ে রয়েছে রাস্তাজুড়ে। কোনো কোনো অংশে নর্দমার ময়লা পানি উপচে পড়ছে।
বর্তমানে গাজার ধ্বংসাবশেষের নিচে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউএনডিপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই মরদেহ উদ্ধারে ফরেনসিক কার্যক্রম ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সৎকারের কাজ করছে। সিলিয়ার্স বলেন, সব হারানো অনেক ফিলিস্তিনির জন্য এই সৎকার বা সনদের কাগজই হয়তো তাদের প্রিয়জনের শেষ স্মৃতি। ১৫ হাজার রানের ক্লাবে ঢুকে শচীনের পাশে কোহলি।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর ও জটিল। ইউএনডিপি গাজাজুড়ে পাঁচটি ক্রাশিং পয়েন্ট পরিচালনা করছে, যেখানে মাত্র সাতটি মেশিন দিয়ে ধ্বংসাবশেষ প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে নতুন যন্ত্রপাতি সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে রয়ে গেছে হাজারো অবিস্ফোরিত বোমা, যা উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
জাতিসংঘের মাইন অপসারণকারী শাখা (ইউএনএমএএস) ও ‘দ্য হ্যালো ট্রাস্ট’-এর মতো সংস্থাগুলো বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা দিয়ে রাখছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। এ ছাড়া, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোও যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গাজার ত্রাণবাহী ট্রাক চলাচলের সুবিধার্থে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করা গেছে, যা মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশ। এ পর্যন্ত ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর দখল ও বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় ত্রাণকর্মীরা কাজ করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তাল আল-হাওয়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম দরদোনা জানান, রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার ফলে পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কমলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া স্বজনদের স্মৃতি ও অগণিত মরদেহ স্থানীয়দের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ২১ লাখ মানুষের জীবনে এই ধ্বংসাবশেষ এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি হামলায় আরও ২০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫ জন শিশু। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, মানবিক এই বিপর্যয় মোকাবিলায় রেড ক্রসের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণের অভিযানটি এখনো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।






