যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির মুখোমুখি করতে ইরান বদ্ধপরিকর। যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তেহরান তার অবস্থান থেকে একচুলও নড়বে না। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শেকারচি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন উসকানি থাকা সত্ত্বেও এই জলপথ পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে তা আর নিরাপদ থাকবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই কৌশলগত প্রণালিতে ওয়াশিংটনের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে শেকারচি জানান, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানকে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আহত যোদ্ধাদের প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী কেনার সক্ষমতাও দেশটির ছিল না। তবে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাই বর্তমানের শক্তিশালী সামরিক কাঠামোর ভিত গড়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর। কোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরানের হাতে নতুন সামরিক প্রযুক্তির ‘চমক’ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যুদ্ধগুলো শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন শেকারচি। শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করে, যেখানে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ভারী অস্ত্র মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শত্রুর মুখে ইরান ‘সামান্যতমও পিছু হটবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনো কোনো প্রতিবেশী মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি; বরং দেশটির পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু সবসময়ই ছিল ওইসব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা। ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর আগের মতো আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেবে না তেহরান। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতিকে অঞ্চলের জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি পরামর্শ দেন, যত দ্রুত তারা এই অঞ্চল ত্যাগ করবে, ততই তাদের ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।






