বাংলাদেশের ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির প্রতি দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগ দীর্ঘদিনের। সেই আবেগের টানেই সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশে এসেছেন কোচ ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভারেলা। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে এই অসামান্য ফুটবলপ্রেম বড় ভূমিকা পালন করেছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানান, বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণই তাকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সংসার ও ক্যারিয়ারের সফলতার শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন ডা. আঁচল। ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৬। ভারতের ফুটবলে অবশ্য ভারেলার অভিজ্ঞতা কম নয়।
৫৩ বছর বয়সী ভারেলা জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি ভারতে কোচিং করালেও বাংলাদেশের প্রস্তাব পেয়ে খুব বেশি দ্বিধায় ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমি ভারতে কোচিং করিয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছি। মোহামেডানের প্রস্তাব পাওয়ার পর এখানে আসার সিদ্ধান্ত আমার জন্য সহজ ছিল, কারণ এখানকার সমর্থকদের ফুটবলের প্রতি তীব্র আবেগ আমাকে বরাবরই আকর্ষণ করেছে।’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের একটি ক্লাবের কোচ হওয়ার সুযোগ পেলেও নানা কারণে তখন আসা হয়নি তার। দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীনদের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি। মোহামেডানের সমর্থকদের জন্য তার প্রতিশ্রুতি, শুধু ফল নয়, মাঠে দেখতে পাওয়া যাবে আকর্ষণীয় ফুটবলও। তবে মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে দায়িত্ব নিয়ে লক্ষ্যও ছোট রাখছেন না ভারেলা।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা দলের অগণিত সমর্থক থাকায় দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করাকে ভারেলা দারুণ সম্মানের চোখে দেখেন। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার কাছে খুবই বিশেষ কিছু।’ ভারতে কাজ করার সময় গোকুলাম কেরালা, চার্চিল ব্রাদার্স, শ্রীনিদি ডেকান, বেঙ্গালুরু ইউনাইটেড ও স্পোর্টিং ক্লাব দ্য গোয়ার মতো ক্লাবের অভিজ্ঞতা এখন তিনি মোহামেডানে কাজে লাগাতে চান। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন / গাজার ধ্বংসস্তূপে অগণিত মরদেহ, সঙ্গে অবিস্ফোরিত বোমা।
তার লক্ষ্য কেবল ভালো খেলা দেখানোই নয়, বরং শিরোপা জেতাও। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোহামেডান যে লিগ শিরোপা জয় করেছিল, সেই গৌরব ধরে রাখতে তারা এবার শক্তিশালী দল গড়েছে। নতুন কোচের অধীনে দলটি ফেডারেশন কাপেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে যে লিগ শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান, সেটি আবারও ঘরে তোলার লক্ষ্যেই শক্তিশালী দল গড়েছে সাদা-কালোরা।
মোহামেডানের বর্তমান স্কোয়াডে জাতীয় দলের নয়জন এবং বয়সভিত্তিক দলের ছয়জন ফুটবলার রয়েছেন। তবে দলের জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি সুযোগ নেই কারো জন্য। ভারেলা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলা মানেই একাদশে জায়গা নিশ্চিত নয়। অনুশীলনের পারফরম্যান্সই হবে খেলোয়াড় নির্বাচনের একমাত্র মাপকাঠি।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখতে চাই কে সেরা এবং কে পরবর্তী ম্যাচের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত। এভাবেই আমি প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজ নিজ জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে উৎসাহিত করব।’ প্রতিটি অনুশীলনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চ্যালেঞ্জই খেলোয়াড়দের আরও দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এদিকে, জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা ৯ জন ফুটবলারকে দ্রুত ফেরত পাওয়ার জন্য মোহামেডান ক্লাবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাবের সূচি পরিবর্তনের আবেদনও করা হয়েছে যাতে নতুন কোচ তার পুরো দলকে অনুশীলনে দ্রুত বুঝে নিতে পারেন।





