দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টেনে ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জিনেদিন জিদান। গত জুলাই মাসে চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর উয়েফা নেশনস লীগে তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের সাবেক সহকর্মী ডেভিড বেতোনি থাকছেন সহকারী হিসেবে, আর গোলরক্ষক কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ ফাবিয়ঁ বার্তেজ। ফ্রান্স জাতীয় দলের ডাগআউটে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু।
ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজালেও শুরুটা খুব একটা সহজ ছিল না ফ্রান্সের জন্য। তুরস্কের রক্ষণভাগের কড়া পাহারায় এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলেদের লড়াই করতে হয়েছে। বরং প্রথমদিকে তুরস্কই বেশি চাপ প্রয়োগ করে। চতুর্থ মিনিটে ইলমাজের শট এবং ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। আর সেই জয়ের নায়ক পুরোনো চেনা মুখ— কিলিয়ান এমবাপ্পে।
দ্বিতীয় অর্ধে ফ্রান্স নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায়। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ৫৯ মিনিটে, যখন জুলস কুন্দে ও রায়ান শেরকির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বল পেয়ে যান এমবাপ্পে। নিঁখুত ফিনিশিংয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৭তম গোলটি করেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত এই গোল করার পরেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ৮৮ মিনিটে তুর্কি গোলরক্ষক চাকির লাল কার্ড দেখলে ফ্রান্স বড় সুযোগ পেলেও তা আর কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জিদানের শিষ্যরা।
ম্যাচের আগে এমবাপ্পে জানিয়েছিলেন, জিদানের অধীনে খেলা তার কাছে সিনেমার মতো। তিনি ১৩-১৪ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রায়ালে জিদানের সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতি স্মরণ করেন। কোচ হিসেবে নিজের প্রথম হোম ম্যাচে আগামী ২ অক্টোবর স্তাদ দ্য ফ্রঁসে ইতালির মুখোমুখি হবেন জিদান। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হারার দুই দশক পর এবার কোচ হিসেবে ইতালিকে মোকাবেলা করবেন তিনি। ১৪ বছর ধরে যে চেয়ারে বসেছিলেন দিদিয়ের দেশম, বিশ্বকাপ শেষে সেই আসনে এবার জিনেদিন জিদান। সেই বিশ্বকাপেই ১০ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন অধিনায়ক এমবাপ্পে, আর জিদান নতুন যাত্রায়ও তাকেই রেখেছেন অধিনায়কত্বে। ১৩-১৪ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রায়ালে জিদানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখন তিনিই আমার জাতীয় দলের কোচ। এটা সিনেমার মতো, কিন্তু এটা বাস্তব।’। তুরস্ক ম্যাচের ঠিক আগে ফ্লু-জাতীয় উপসর্গের কারণে একদিন অনুশীলন মিস করেছিলেন এমবাপ্পে, যা নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে মাঠে নেমে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন তিনি নিজেই।
জিদানের এই নতুন যাত্রায় দলে বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। লিভারপুলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জেরেমি জ্যাকেট, রেনের এস্তেবান লেপো এবং কোমোর মিডফিল্ডার লুকাস দা কুনিয়া প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে চোটের কারণে এবার দলে ছিলেন না উইলিয়াম সালিবা ও অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়েছিল, যা ছিল ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দেশম যুগের চূড়ান্ত সমাপ্তি।






