জামালপুরের বকশীগঞ্জে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ‘বকশীগঞ্জ ফারটিলাইজার ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সার বিক্রির যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থায় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সার ক্রয়ের হিসাব ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে, যা সার ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করেছে।
এই পদ্ধতিতে সার ডিলারদের নিজস্ব ইউজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কোনো কৃষক সার কিনতে এলে ডিলার তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নাম, ঠিকানা এবং ক্রয়ের পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেমে ইনপুট দিচ্ছেন। ফলে একজন কৃষক কখন, কোন ডিলারের কাছ থেকে কী পরিমাণ সার সংগ্রহ করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিলারের কাছে থাকা সারের বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রির হিসাব অনলাইনে দৃশ্যমান থাকায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
এ বিষয়ে সার ডিলার মো. সওদাগর জানান, কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে অনলাইনে আপলোড করার এই প্রক্রিয়ায় সার বিক্রি করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। এতে বিক্রয় কার্যক্রমের হিসাব স্বচ্ছ থাকছে এবং সার নিয়ে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে না। কৃষকেরাও জানিয়েছেন, আগের তুলনায় বর্তমানে সার সংগ্রহে তাদের ভোগান্তি অনেক কমেছে এবং লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রয়োজন পড়ছে না।
বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা সত্ত্বেও কৃষকদের মধ্যে বাড়তি সারের এক ধরণের চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে একই কৃষক একাধিকবার সার সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এই বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ডিজিটাল পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেমে কৃষক কতটুকু সার নিয়েছেন এবং ডিলার কোন কৃষকের কাছে কতটুকু সার বিক্রি করেছেন, তার পুরো তথ্য সংরক্ষিত থাকছে, যা সার খাতে দুর্নীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।




