ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার ১ নম্বর সড়ক এলাকায় একটি অবৈধ ওষুধ কারখানায় ফের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় জেলা প্রশাসন ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অভিযানের সময় এসআরবি-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান উপস্থিত ছিলেন। জব্দ করা হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের ভেজাল ওষুধ ও শিশুখাদ্যের ক্ষতিকর কেমিক্যাল।
কারখানাটির মালিক বায়েজিদ হোসেন (শাহেদ), যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। প্রবাসী আবুল কাশেমের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে ‘জনতা ল্যাবরেটরিজ আয়ুর্বেদিক’ নামে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযানে কারখানায় কোনো প্রশিক্ষিত কেমিস্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় জিল্লুর রহমান নামের এক কর্মীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভবনমালিককে সাত দিনের মধ্যে কারখানার যাবতীয় যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানাটিতে প্রথম দফায় অভিযান চালায়। সে সময় অবৈধভাবে ওষুধ উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে বায়েজিদ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে দলটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বায়েজিদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সাকিব রহমান জানান, বাজেয়াপ্ত হওয়া ওষুধগুলো বিনষ্ট করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখান থেকে তৈরিকৃত ক্ষতিকর ওষুধগুলো ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। জব্দ করা রসিদ ও নথিপত্রে এই কারখানার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডাদেশের পর বায়েজিদকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমান অভিযানে পুরো কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।





