
লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির দখল পুনরুদ্ধারে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে পাওয়া তথ্যমতে, এই অভিযানে ইয়েমেনের প্রায় এক লাখেরও বেশি সেনা অংশ নিতে পারেন। তাদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সৌদি বিমানবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুটি ঘটনার মধ্যে এমন এক সময়ে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, যখন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামগ্রিক অভিযানের সময় এবং পরিধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রিয়াদ মূলত দুটি বিকল্প পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় সীমিত পরিসরে অভিযান চালিয়ে দখল পুনরুদ্ধার। দ্বিতীয়ত, ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে একযোগে বড় ধরনের সমন্বিত আক্রমণ। আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেট এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যেকোনো সময় এই অভিযান শুরু হতে পারে। প্রণালিটি ইয়েমেনের উপকূল, আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি মনে করেন, সৌদি অভিযান ২০১৫ সালের বৃহৎ সামরিক অভিযানের তুলনায় সীমিত পরিসরে হতে পারে। অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি।
এরই মধ্যে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি অভিযানে ১,৫৪০ জন হুতি বিদ্রোহীকে হতাহত করার দাবি করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি এই তথ্য জানান। তিনি জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও হুতিদের বিরুদ্ধে এই হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সরকারি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মুখপাত্র কোনো তথ্য দেননি।
তাইজ শহর এখন লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে সরকার তাইজের আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে, যা মানবিক প্রয়োজনে চলতি বছর খুলে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই সড়ক দিয়ে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও সামরিক তৎপরতা বাড়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে হুতিদের সানা দখলের মাধ্যমে শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হুতিরা মোখা বন্দরনগরী এবং বাব আল-মান্দেব সংলগ্ন কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, হুতিদের মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর মোকাবিলায় হুতিবিরোধী জোটের অনেক সদস্য এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুত নয়।
এই রণক্ষেত্রে সৌদি আরবকে নানাভাবে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক পরামর্শ ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তের ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করলেও সরাসরি বিমান হামলার মতো বড় ধরনের সামরিক সহযোগিতা গ্রহণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সম্মতি দেননি। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সহায়তা আসছে। পাকিস্তান আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন ও কামান পাঠিয়েছে এবং সৌদি আরবের স্থলসীমান্ত রক্ষায় ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে দেশটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে লড়ছে না বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় ফ্রান্সও সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগের প্রধান পথ এখন এটি। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে এই নৌপথ রেখে তাদের সঙ্গে কোনো শান্তি আলোচনা করতে চায় না রিয়াদ। তাই উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সৌদি আরবের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ পাবে গোষ্ঠীটি।
এরই পাশাপাশি দেশে চলমান অন্যান্য সংকটের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় একদিনেই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৬০৮ জন। অন্যদিকে হামের উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১২২-এ। এছাড়া রাজনীতিতে দীনেশ ত্রিবেদী দাবি করেছেন যে, ২০২৪ সালে হাসিনাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের কোনো উপায় ছিল না। অন্যদিকে জামায়াতকে নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পরওয়ার ১৯৯১ সাল ও তৎকালীন জোট রাজনীতির ইতিহাসের দিকে নজর দিতে বলেছেন। সৌদি জোট মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ আনলেও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬০৮। হামের উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, মোট ১১২২। জামায়াতকে গুপ্ত বলার আগে ১৯৯১ ও জোটের রাজনীতি মনে করুন: পরওয়ার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০