এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্স, রান বা উইকেটের লড়াইয়ের চেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। এখন পর্যন্ত গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে মোট ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠে গড়াতে পেরেছে মাত্র ৪টি ম্যাচ। বাকি ৬টি ম্যাচ মাঠ ভেজা থাকার কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়েছে। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট ভাগাভাগির সুযোগ থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনাল ও পরবর্তী নকআউট পর্বের জন্য ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। নকআউট পর্বে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। মাঠে বা ম্যাচে নামার সুযোগই তাদের হয়নি বৃষ্টির দাপটে। ম্যানেজার তখন জানতে চান তাদের মাঠে আসতে হবে কি না।
চলতি আসরের সেমিফাইনালে ওঠা চারটি দলই এখন পর্যন্ত মাঠে বল খেলার সুযোগ পায়নি। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা—প্রতিটি দলই বৃষ্টির কারণে কোনো ম্যাচ ছাড়াই র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে পরের পর্বে উন্নীত হয়েছে। তবে নকআউট পর্বে এই নিয়মের সুযোগ আর নেই, তাই সেমিফাইনালের লড়াই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ১ অক্টোবর খারোগি অ্যাথলেটিক স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় এই ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একই ভেন্যুতে দিনব্যাপী দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টায়, যেখানে লড়বে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশ দলের জন্য ১ অক্টোবরের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো কারণে সেমিফাইনাল পরিত্যক্ত হলে র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি র্যাংকিং বাংলাদেশের চেয়ে ভালো হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তারাই এগিয়ে যাবে। তাই সেমিফাইনালে মাঠের ক্রিকেটে লড়াইয়ের সুযোগ পেতে বাংলাদেশ দল রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আজ সকাল ৬টা থেকে মূল ক্রিকেট মাঠে দলের অনুশীলন সূচি থাকলেও বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ঠিকমতো প্র্যাকটিস করতে পারেনি। একটা তথ্য জানালে এই ধারণাটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। অবাক করার বিষয় হলো এই গেমসে যে চারটি দল সেমিফাইনালে খেলছে তাদের কেউ মাঠের ক্রিকেটে জেতেনি।
এর আগে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনালটিও বৃষ্টির কবলে পড়ে বাতিল হয়ে যায়। একই দিনে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ম্যাচটিও মাঠ ভেজা থাকার কারণে মাঠে গড়াতে পারেনি। আম্পায়াররা ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ পরিদর্শন শেষে খেলা পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সকাল ৭টায় মাঠ দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, সারাদিন বৃষ্টি থাকলেও মাঠ খেলার অনুপযোগী থাকবে। সেই সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা আর মাঠে যাননি। পেছনের দুদিনের তুমুল বৃষ্টিতে গতকাল সকালে শ্রীলঙ্কা-নেপালের ম্যাচ বাতিল। সকাল থেকে যে হারে নাগোয়ায় বৃষ্টি হচ্ছিল তাতে বৃষ্টি যদি থেমেও যায় তবু এই মাঠ সারা দিনে খেলার উপযোগী করা সম্ভবপর হবে না।
জাপানের আইচি-নাগোয়ার স্থানীয় আবহাওয়া বার্তা অনুযায়ী, আগামীকাল সেমিফাইনালের দিনে সূর্যোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাংলাদেশ দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কোনো ম্যাচ না খেলে সেমিফাইনালে আসা এই চার দলের ক্রিকেটারদের এখন একটাই প্রার্থনা—বৃষ্টি যেন আর বাধা না হয় এবং খেলাটি যেন পুরোদমে শেষ হয়। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ দল এখন খারোগি অ্যাথলেটিক স্পোর্টস পার্কের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে।






