
সত্তর দশকের বলিউডে সাহসী অভিনয়ে সাড়া ফেলেছিলেন অভিনেত্রী জিনাত আমান। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ব্যবসাসফল সিনেমার পাশাপাশি সাহসী দৃশ্যে কাজ করায় তিনি দ্রুত ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৭০ সালে বলিউডে পা রাখা এই অভিনেত্রী ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ সিনেমায় রূপা চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার আগের কয়েকটি ছবির মতোই এ সিনেমার বিরুদ্ধেও অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিল। ১৯৭৭ সালে তার অভিনীত ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। বলিউড সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেত্রী জিনাত আমান সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফিল্ম ইন্ডিাস্ট্রিতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন।
দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অতিবাহিত করা চুয়াত্তর বছর বয়সি এই অভিনেত্রী সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তার জীবনের সেই পরিচিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। জিনাত বলেন, সিনেমার জগতের প্রয়োজনে এবং তৎকালীন সময়ের নিরিখে তাকে এমন তকমা দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি মানিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি নিজের কাজকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন বলেই এমন পরিচিতি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এমন একটি পরিচিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক ছিল না।
ক্যামেরার সামনে গড়ে ওঠা সেই পরিচিত অবয়বের আড়ালে থাকা মানুষটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল বলে দাবি করেন জিনাত আমান। তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেশ অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলেন এবং লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেই পছন্দ করতেন। ক্যামেরার বাইরে নিজের কাজে মগ্ন থাকাতেই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতেন। মানুষের ধারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, মানুষ সাধারণত আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা কিংবা কল্পনার আয়না দিয়ে বিচার করে, যা আমাদের প্রকৃত সত্তাকে আড়াল করে রাখে। তা উল্লেখ করে জিনাত আমান বলেন, “জীবন আমাকে শিখিয়েছে—আমরা প্রকৃতপক্ষে যে মানুষ, সেই রূপটি সাধারণ মানুষ খুব কমই দেখেন। আমি বিষয়টি বুঝতাম, মেনেও নিয়েছিলাম। স্বভাবতই ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে পছন্দ করতাম, কিছুটা অন্তর্মুখীও ছিলাম। প্রকৃত মানুষটিকে সবাই দেখতে পান না।
মানুষের বহুমুখী পরিচয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ কারো কাছে রহস্যময়, আবার কেউ ভীতিকর। দীর্ঘ বিমানযাত্রায় পাশের আসনে বসা অপরিচিত মানুষটিও কথোপকথনের মাধ্যমে অন্যরকম হয়ে উঠতে পারেন। এসব পরিচয়ের কোনোটিই একজন মানুষকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়। তাই অন্যের দেওয়া প্রতিটি ভুল ধারণা বা সমালোচনা শুধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।
জিনাত আমানের মতে, অন্যরা তাদের মতো করে ভাবার অধিকার রাখেন, তবে নিজেদের প্রকৃত সত্য জানার অধিকারও আমাদের রয়েছে। তাই পরিচিতির তকমা, সংবাদপত্রের শিরোনাম কিংবা অন্যদের বলা গল্পের বাইরে গিয়ে নিজের আসল সত্তাকে চিনে নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ বলে তিনি মনে করেন।
নিজের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে তিনি কিছু প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছেন। কেউ কখনো তাকে ভুল বুঝেছিলেন কি না, কিংবা তিনিও জীবনে অন্য কাউকে ভুলভাবে বিচার করেছেন কি না—এসব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি আগ্রহী। নিজের প্রকৃত সত্তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে জিনাত আমান তার জীবনের নানা অভিজ্ঞতার আলোকে সবাইকে নিজেদের সত্যকে চিনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০