
সাগরের গভীরতা যেমন অজানার রহস্যে ঘেরা, তেমনি সাগরের উপরিভাগও সাক্ষী হয়ে আছে এমন সব ঘটনার, যা আজও অমীমাংসিত। সমুদ্রের বুকে ভাসমান ‘ফ্যান্টম শিপ’ বা ভূতুড়ে জাহাজগুলোর প্রতিটি ঘটনায় প্রাণ থাকলেও, রহস্যজনকভাবে তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনা বছরের পর বছর ধরে মানুষের কাছে কিংবদন্তি ও ভয়ের এক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ১০ এয়ারবাস কিনতে আলোচনা করছে বিমান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দুঃখিত ও বিব্রত: জাহেদ উর রহমান। ৪ ফরোয়ার্ড না ৩ মিডফিল্ডার, উত্তর খুঁজছেন আনচেলত্তি। সাগরের গভীরে যেমন অজানা অসংখ্য রহস্য লুকিয়ে আছে, উপরেও রয়েছে নানা অদ্ভুত কাহিনি। এগুলো লোককথার অংশ হয়ে এসব গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
মেরি সেলেস্তে জাহাজটি এই রহস্যের অন্যতম বড় উদাহরণ। ১৮৭২ সালের ৭ নভেম্বর, একজন ক্যাপ্টেন, তার স্ত্রী, তাদের দুই বছরের কন্যা এবং সাতজন নাবিকসহ জাহাজটি নিউইয়র্ক থেকে ইতালির পথে যাত্রা করেছিল। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যেখানে নাবিকদের ছয় মাসের খাবার ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অক্ষত ছিল, কিন্তু লাইফবোটটি ছিল না। জাহাজের তলায় তিন ফুট পানি থাকলেও জাহাজটি ডুবে যাওয়ার কোনো লক্ষণ ছিল না। এই ঘটনাটি স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের ছোটগল্প ‘জে. হাবাকুক জেফসনের স্টেটমেন্ট’-এর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। জলদস্যু হামলা থেকে শুরু করে খুনের ঘটনা পর্যন্ত নানা তত্ত্ব শোনা গেলেও, আসল রহস্য আজও রহস্যই রয়ে গেছে।
১৯২০ সালে রিও ডি জেনিরো পৌঁছেছিল কার্গো জাহাজ ‘ক্যারল এ. ডিয়ারিং’। এরপর জাহাজটি হারিয়ে যায় এবং নর্থ ক্যারোলিনার এক লাইট হাউস কর্মী জানান, জাহাজের নাবিকদের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। পরে জাহাজটি আউটার ব্যাংকসের কাছে পাওয়া যায়, যেখানে খাবার টেবিল সাজানো থাকলেও নাবিকদের কোনো খোঁজ ছিল না। একইভাবে ২০০২ সালে তাইওয়ান থেকে হাই এইম নম্বর ৬ নামের একটি মাছ ধরার নৌকা নিখোঁজ হয়। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনী এটিকে খুঁজে পেলেও, নৌকাটি চলছিল পূর্ণ গতিতে কিন্তু মূল জ্বালানি ট্যাংক ছিল খালি। পরবর্তীতে জানা যায়, নাবিকেরা জলদস্যুদের সহায়তায় বিদ্রোহ করে ক্যাপ্টেন ও প্রধান প্রকৌশলীকে হত্যা করেছিল, তবে নৌকাটি কেন পরিত্যক্ত হয়েছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
২০১৩ সালে নিনা ইয়টের আট আরোহী রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। উদ্ধারকারীদের মতে, নৌকাটি ৭০ মাইল গতির বাতাস ও ২৬ ফুট উঁচ ঢেউয়ের ঝড়ে পড়ার কথা ছিল, তবে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা উপগ্রহের মাধ্যমে সম্ভাব্য কিছু ছবি পেলেও সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ১৯৫৫ সালে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে হারিয়ে যায় বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি জয়িতা। দীর্ঘ তল্লাশির পরও কোনো চিহ্ন মেলেনি। এক মাস পর অন্য এক ক্যাপ্টেন আংশিক ডুবে যাওয়া অবস্থায় জাহাজটি খুঁজে পান, যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পাইপের ফুটো দিয়ে পানি ঢোকাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এক মাস পর তাদের সেখানে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্রিটিশ জাহাজ ডেই গ্রাতিয়া আটলান্টিকে ভাসতে থাকা আমেরিকান জাহাজটিকে দেখতে পায়। সাহায্যের প্রস্তাব দিতে ডেই গ্রাতিয়ার নাবিকেরা মেরি সেলেস্তেতে ওঠেন, কিন্তু জাহাজটি পুরোপুরি ফাঁকা দেখতে পান।
এছাড়া ‘এসএস ওরাং মেডান’ জাহাজটি ১৯৪৭ সালের এক ট্র্যাজেডির নাম। জাহাজটি থেকে বিপৎসংকেত পাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা ভেতরে ঢুকে সকল নাবিককে মৃত অবস্থায় পান, যাদের দেহ ছিল অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো। ধারণা করা হয়, জাহাজে সালফিউরিক অ্যাসিড ছড়িয়ে পড়ার কারণে নাবিকেরা শ্বাসকষ্টে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। আবার ২০১৬ সালে ফিলিপাইনের জেলেরা সমুদ্রে একটি পরিত্যক্ত ইয়ট খুঁজে পান, যার ভেতরে ছিল বাজোরাত নামক এক নাবিকের সংরক্ষিত মরদেহ। তিনি ২০০৯ সালে সর্বশেষ নিখোঁজ হয়েছিলেন, তবে তাকে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
ইতিহাসের পাতায় থাকা ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ বা ২০১৮ সালে মিয়ানমার উপকূলে পাওয়া ‘সাম রাতাউলাঙ্গি’র মতো জাহাজগুলো আজও মানুষকে অবাক করে। এদিকে ১৩৯ বছর আগে ডুবে যাওয়া কাঠের স্কুনার ‘এফ.জে. কিং’-এর ধ্বংসাবশেষ সম্প্রতি লেক মিশিগানে খুঁজে পাওয়া গেছে। ১৮৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে লৌহ আকরিক নিয়ে যাওয়ার সময় প্রবল বাতাসে জাহাজটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় নাবিকেরা সেটি ত্যাগ করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আধুনিক প্রযুক্তিতে সেই রহস্যের জট খুলেছে। সমুদ্রের এসব ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সামনে মানুষ আজও কতটা অসহায় ও কৌতূহলী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০