পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়ামের নতুন চালান ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। রাশিয়া থেকে আকাশপথে ভারত হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রূপপুর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাশিয়া থেকে রওনা হওয়ার পর ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি ভারত হয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
নিরাপদ পরিবহনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, শনিবার ভোররাত চারটার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িগুলো কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পাবনার রূপপুর প্রকল্পের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এই চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় এই ইউরেনিয়াম রূপপুরে পৌঁছানো হবে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে রূপপুরে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ির।
চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি ফ্লাইটে ইউরেনিয়াম আসার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালানগুলো পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি আসার পর চলতি বছরের মে মাসে তা পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, প্রকল্পটির কমিশনিং প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিআরওভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রধান ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সফলভাবে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষায় ভালভগুলোর কার্যকারিতা, অ্যালার্ম এবং সামগ্রিক প্রতিক্রিয়ার মান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। ভালভগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভ-এর কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও যাচাই করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
নিরাপদ চাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পিআরওভি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পরবর্তী ধাপে ১৮ এমপিএ চাপে আরেকটি পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। সেই পরীক্ষা সফল হলে ফিশন রিঅ্যাকশন বা পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে অক্টোবর মাস সময় লেগে যেতে পারে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্বপ্নের এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বা মোট ক্ষমতার ৩০ শতাংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থাটি সরাসরি সম্পৃক্ত। Do Not Sell or Share My Personal Information।



