
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার ওপর থেকে ডিজেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিটের এক ফোনালাপের পর এই পদক্ষেপের ঘোষণা আসে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মস্কো অবিলম্বে মার্কিন বাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পরবর্তী ধাপে নভেম্বরে ৫ লাখ এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। তবে জ্বালানির বাজারে এই উদ্যোগের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক সংশয় ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ে মোদি-শাহ, আরএসএস-বিজেপি, বিরোধী-জেন জি। এক্সপ্লেইনার / রাশিয়ার ডিজেল নিতে গিয়ে কেন কূটনৈতিক সংকটে ট্রাম্প। গ্রামের দরিদ্রদের আয় চলে যাচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে: গবেষণা। ট্রাম্প-পুতিনের ৯০ মিনিটের ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধে যে আলোচনা হলো। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, সরবরাহের এই উদ্যোগে সাময়িক স্বস্তি মিললেও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা কঠিন হতে পারে। বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল ডিজেল শুধু পরিবহন খাতেই ব্যয় হয়। এই হিসেবে রাশিয়ার প্রতিশ্রুত প্রথম চালানের ৩ লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক চাহিদাও পূরণ করতে পারবে না। পর্যায়ক্রমে আসা মোট ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র চার দিনের চাহিদার সমতুল্য। ফলে এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক স্বস্তির চেয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতাকেই বেশি উসকে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কূটনৈতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ফ্লোরিডার মায়ামির কাছে মার্কিন বিশেষদূত স্টিভ উইটকফের ‘শেল বে’ গলফ ক্লাবে আয়োজিত এক বৈঠক থেকে। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বন্ধের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে হবে। রাশিয়ার ডিজেল আমদানির পথ সুগম করতেই ওয়াশিংটন এমন কঠোর অবস্থানে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জবাবে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন, হামলা বন্ধের বিনিময়ে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আছে কি না। তবে মার্কিন প্রতিনিধিরা জানান, ইউক্রেনের জন্য এমনিতেই অনেক সাহায্য করা হয়েছে, তাই নতুন করে কোনো সমঝোতার প্রয়োজন নেই। এ ধরনের বক্তব্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি বলে মনে হয়েছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে বলেছেন, রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা মার্কিন কৃষক ও খামারিদের জন্য জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইউক্রেনে এখন নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, জেলেনস্কির তুলনায় পুতিন শান্তি আলোচনায় বেশি আগ্রহী। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে ইউক্রেনের হামলাকে এককভাবে দায়ী করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক উত্তজনা জ্বালানির দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, দুই দেশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পক্ষই এমন যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বরং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে। ফলে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। বেড়েছে চালের দাম, কারণ জ্বালানি ও ধানের মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমের শেষ।
এই চুক্তির অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করত। কিন্তু ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগার মেরামত না হওয়ায় মস্কো জুলাই থেকে রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত এই ডিজেল সরবরাহ অসম্ভব হতে পারে। তাছাড়া রাশিয়ার জিডিপিতে ডিজেল রপ্তানির এই সামান্য অর্থের প্রভাব অত্যন্ত সীমিত, কারণ রপ্তানির ওপর রাশিয়ার কোনো কর নেই।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ইউক্রেনসহ ইউরোপের মিত্র দেশগুলোতে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এটি মস্কোকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিংয়ে ইইউ কর্মকর্তা বিয়র্ন সাইবার্ট জানিয়েছেন, এই ঘোষণায় ইউরোপের নেতারা স্তম্ভিত। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডন বেকনসহ আইনপ্রণেতারা এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০