
নব্য উদারবাদ বা নিওলিবারেলিজম এবং রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও মার্কসবাদী অর্থনীতিবিদ প্রভাত পাটনায়েক। তিনি গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং বাংলাদেশের জন্য বিকল্প উন্নয়ন পথের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
প্রভাষ পাটনায়েকের মতে, গত কয়েক দশক ধরে নব্যউদারবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিশ্বকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই ব্যবস্থার তৈরি তীব্র বৈষম্য বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবিরতা এবং উচ্চ বেকারত্বের মতো সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে গ্লোবাল সাউথভুক্ত কোনো দেশ যদি প্রবৃদ্ধির নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলো সাধারণত তার বিরোধিতা করে। এমনকি অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ বা আয়বৈষম্য কমানোর মতো উদ্যোগ নিতে গেলেও আন্তর্জাতিক বাধা ও পুঁজির নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি হতে হয়।
অর্থনৈতিক কৌশল পরিবর্তনের জন্য প্রভাত পাটনায়েক রাষ্ট্রকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাকে তিনি 'দিরিজিজম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, পরিবর্তনের জন্য কেবল জোড়াতালি বা ক্ষুদ্র পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে পুঁজির প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা থেকে সাময়িক দূরত্ব বজায় রাখার ঝুঁকি নিতে হবে। যদিও বিদেশি পুঁজি কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি এতে রয়েছে, তবু জনগণের সামনে বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বাড়ানোর মাধ্যমেই এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব।
ভারতের প্রেক্ষাপটে উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সংবিধানসম্মত মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থানের অধিকার (কর্মসংস্থান দিতে না পারলে পূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করা), সর্বজনীন ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা এবং সবার জন্য পেনশন সুবিধা। প্রতিবন্ধী ভাতাসহ এসব অধিকার নিশ্চিত করতে ভারতের মতো বাংলাদেশেও শীর্ষ পর্যায়ের ধনীদের ওপর সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর আরোপ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। কোভিড অতিমারির আগে ২০১০-২০২০ দশকে বৈশ্বিক জিডিপির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শ্রম উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির হার ছিল বছরে ১ শতাংশ, যা বৈশ্বিক শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধির হার (১ দশমিক ২ শতাংশ) থেকে কম। ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস ব্যবস্থা থেকেই পুঁজিবাদের মূল লক্ষ্য শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর পরিবর্তে তা কমানোর ওপর বেশি জোর দিয়ে আসছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য ভালো ফল দিলেও সব দেশ একই সাথে এই কৌশলে সফল হতে পারে না। কারণ, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এক দেশের রপ্তানি বাড়লে অন্য দেশের তা কমে। তার মতে, বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্যব্যবস্থা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করতে উদ্বৃত্ত দেশকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর সুযোগ দেয় না, বরং ঘাটতিতে থাকা দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা, যা বিশ্বে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক ধাঁচে আজও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে গ্লোবাল নর্থের জন্য প্রাথমিক পণ্য ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনে বাধ্য করা হচ্ছে। খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ত্যাগের ফলে অনেক আফ্রিকান দেশ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপর্যয়কর। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মূল শর্ত হলো, দেশের অর্থনৈতিক কৌশল জনগণের ইচ্ছায় নির্ধারিত হওয়া, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়। পুঁজির বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমেই প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, দেশে চলমান অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল, যেখানে সাত ধাপে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে এবং প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগের মধ্যে হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩০ জন। এছাড়া, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নতির আশ্বাস পেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা, যা শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই মডেল কি এখন ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য উত্তেজনা ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নতা যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সামনে এগুলো কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ও একইসঙ্গে সুযোগ তৈরি করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দেশের সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে পণ্য, সেবা এমনকি অর্থ ও পুঁজির তুলনামূলক অবাধ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণেই নিজের দেশের বেকারত্ব কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০