
মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো প্রায় ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে বহনকারী তিনটি নৌযান দেশটির জলসীমায় পৌঁছেছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার' জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নৌযানগুলো জলসীমায় প্রবেশ করে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন কেন্দ্রে আটক থাকা ব্যক্তিদের অবৈধভাবে অবস্থান ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাজা ভোগের পর নিজ দেশে পাঠানো হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ ৫ হাজার মানুষকে দেশে ফেরানোর একটি মহাপরিকল্পনার অংশ, যার প্রথম ধাপ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব নৌযানে মোট ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
তবে মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসনকারীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদক কেলি ই. কারি এই প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে বন্ধ করে জাতিসংঘের সাথে সমন্বয় করার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটির মতে, দেশটির বর্তমান গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতি শরণার্থীদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য একেবারেই অনুকূল নয়। বিপরীতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি স্বেচ্ছামূলক।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে, ফেরার পথে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রত্যাবাসনকারীদের চিকিৎসা, খাবার ও পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুন বন্দরে তাদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন এবং পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর কেউ রয়েছেন কি না, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে তদন্তাধীন রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধির ফলে দেশটির সরকার অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০