
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন এই নেতার রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অধ্যায়। তার শপথ গ্রহণের পরপরই সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন প্রখ্যাত নির্মাতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার ছটকু আহমেদ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুলের জীবনের সেই অজানা দিকগুলো তুলে ধরেন।
ছটকু আহমেদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ১৯৭২-৭৩ সালে ঠাকুরগাঁও ইরিগেশন বিভাগে সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় ওয়াপদা সরকারি কলোনিতে থাকার সুবাদে বিকেলের দিকে পাবলিক লাইব্রেরিতে তাদের নিয়মিত আড্ডা হতো। সেই আড্ডায় ফনি পালিতদা ও অধ্যাপক মনতোষ বাবুর মতো ব্যক্তিত্বরাও অংশ নিতেন। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নাট্যচর্চায় তারা সময় অতিবাহিত করতেন।
মির্জা ফখরুলের অভিনয় প্রতিভার প্রশংসা করে ছটকু আহমেদ লেখেন, “সুঠাম সুন্দর ভরাট কণ্ঠের অধিকারী আলমগীর সাহেব নায়কের অভিনয় করতেন, আবৃত্তি করতেন। হল হাততালিতে ফেটে পড়ত।” সে সময় প্রখ্যাত অভিনেত্রী আনোয়ারার ছোট বোন নার্গিসকে নিয়ে বলাকা সিনেমা হলে নাটক মঞ্চস্থ করার স্মৃতিও তিনি রোমন্থন করেন। এছাড়া পল্টুদার চায়ের দোকানে আড্ডার মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে কর্মজীবনের প্রয়োজনে ছটকু আহমেদ ঠাকুরগাঁও ছাড়লে দীর্ঘ সময় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। অনেক বছর পর গুলশানের সমরখন্দ লেমনগ্রাস রেস্তোরাঁয় তাদের পুনরায় দেখা হয়, তখন তিনি জানতে পারেন মির্জা ফখরুল মন্ত্রী হয়েছেন। এরপর জিয়া শিশু একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে তাদের আবার দেখা হয়, যখন মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সেই স্মৃতি স্মরণ করে ছটকু আহমেদ জানান, “আমাকে সামনে বসা দেখে ডেকে স্টেজে তুলে নিলেন। বিশেষ সম্মাননা কমল পদক তুলে দিলেন।”
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও নাট্যসমিতি আয়োজিত ‘এই লভিনূ সঙ্গ তব’ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল তার অতীতের নাট্যচর্চার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছটকু আহমেদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শ্রোতা মেসেজের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি ছটকু আহমেদকে আবেগাপ্লুত করেছে বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে ছটকু আহমেদ বলেন, “অসাধারণ মানবিক ও সংস্কৃতিবান এবং কিংবদন্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলমগীর সাহেব এখন দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আজ কোনো দলের নন, রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি।” তিনি নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা কামনা করেন, যাতে তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্রের মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
ছটকু আহমেদের এই স্মৃতিচারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক সত্তার বাইরে তার সংস্কৃতিমনা এক ভিন্ন পরিচয়কে নতুন প্রজন্মের সামনে নিয়ে এসেছে। মঞ্চের সেই অভিনেতা থেকে আজকের রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় তার মানবিক গুণাবলি ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিষয়টিই বড় হয়ে উঠেছে এই লেখায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঞ্চে নাটকে অভিনয়ের পর এক ফ্রেমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছটকু আহমেদসহ অন্যরা। চাকরির আরও তথ্য: এরপর চাকরির কারণে ঠাকুরগাঁও ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন ছটকু আহমেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরো লেখেন, “আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০