
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল রপ্তানি নিয়ে একটি নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে এই সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ পাবে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং তাদের নিজস্ব প্রমাণিত মজুত প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ব্যারেল। ভেনেজুয়েলার এই ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুত ১১১ বিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাবে।
এই পরিকল্পনার আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র থেকে জ্বালানি উত্তোলনে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ বছর পর্যন্ত ছাড় পাবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে পেন্টাগনের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেতানকুরের মালিকানাধীন একটি বেসরকারি কোম্পানি যুক্ত থাকবে। বেতানকুর এই চুক্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন ও রদ্রিগেসের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রায় আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স ভেনেজুয়েলার তৎকালীন শাসক নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কৌশলগত রিজার্ভ পূরণে সহায়তা করবে, যা বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রায় খালি হয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে এবং এটি ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য একটি উপহার।
চুক্তিটির পক্ষে সাফাই গেয়ে দেলসি রদ্রিগেস দাবি করেছেন, এর সুফল অন্তহীন। তিনি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করবে এবং দেশটি ‘জ্বালানি পরাশক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। রদ্রিগেসের মতে, মাটির নিচে সম্পদ পড়ে থাকা মানেই উন্নয়ন নয়; এর জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো। তিনি বিদেশি শক্তির কাছে সম্পদ সমর্পণের অভিযোগ নাকচ করে জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা তার সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখছে।
তবে এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার ভেতরে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর সাবেক প্রধান রাফায়েল রামিরেজ একে ‘নব্য ঔপনিবেশিক’ চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে দেশের হৃদপিণ্ডে ছুরি চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এছাড়া বিরোধী রাজনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও নতুন নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দেবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে রদ্রিগেস অস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘কোনো একদিন’ নির্বাচন হবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা নির্বাচনের জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। বিরোধী নেতা হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা এক্সে লিখেছেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে অবাধ নির্বাচন অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের নিশ্চয়তা ছাড়া জ্বালানি চুক্তি করা তাসের ঘর তৈরির মতো ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে, কারাকাসে বামপন্থীদের একটি গ্রুপ এই চুক্তির প্রতিবাদে মিছিল করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিডিভিএসএর নাম বদলে ‘পিডিইউএসএ’ করার ব্যঙ্গাত্মক মিম ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হামের উপসর্গে দেশে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট ৯৭৩। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজধানীতে ৯ ‘নীরব এলাকা’ শুধু ঘোষণাতেই, আওয়াজে কানে তালা লাগে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১০০ বছর ভেনেজুয়েলার তেল তুলবে যুক্তরাষ্ট্র, কার লাভ কার ক্ষতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগাম স্বাক্ষর, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর সুফলের অন্ত নেই—এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সার্বিকভাবে এটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল দিয়ে আমি যেসব কাজ করব, তার একটি হলো কৌশলগত জাতীয় রিজার্ভ পূরণ করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্থাটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত প্রকল্পে অর্থায়ন করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০