আসন্ন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। তবে শুরুতেই ভিসা সংক্রান্ত ঝামেলায় পড়েছেন জাতীয় দলের নবনিযুক্ত জার্মান হেড কোচ পিটার গেরহার্ড রাখ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তার ঢাকায় নামার কথা থাকলেও সফর একদিন পিছিয়ে তিনি শুক্রবার বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছেন।
এর আগে গত রোববার টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) ২৬ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল গঠন করে। স্কোয়াডে স্থান পাওয়া খেলোয়াড়রা সহকারী কোচ শহীদুল্লাহ টিটুর কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করেন। পরবর্তী সময়ে নতুন প্রধান কোচ গেরহার্ডের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে পুরো অনুশীলন কৌশল নির্ধারণ করেন টিটু। নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আজ ভোর সাড়ে ৬টায় মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে রাসেল-চয়নদের মাঠের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করার আট দিন পর ফের টার্ফে নামছেন আমীরুল-বাবুরা। পরে ভার্চ্যুয়াল সভায় গেরহার্ডের সঙ্গে আলোচনা করে অনুশীলনের পরিকল্পনা সাজান টিটু।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন বাহফের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স। তিনি উল্লেখ করেন, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া দেশের হকির জন্য আনন্দের খবর। মহাদেশের পরাশক্তিগুলোর বিপক্ষে খেলার এই সুযোগ দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সহায়ক হবে। অপরদিকে প্রতিযোগিতামূলক দল গঠনের লক্ষ্য স্থির করেছেন সহকারী কোচ টিটু। ভারতের আবহাওয়া বাংলাদেশের পরিচিত পরিবেশের মতোই মন্তব্য করে তিনি জানান, জাতীয় দল সেখানে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লড়াই করবে এবং বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জিমি ও মিমোর মতো অভিজ্ঞ তারকাদের সমন্বয়ে ভালো ফল পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘ভারতের কন্ডিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের তেমন পার্থক্য নেই। এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে খেলোয়াড়রা।
উল্লেখ্য, এশিয়ান গেমসে ষষ্ঠ স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে জাপানে গেলেও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সপ্তম স্থানে থেকে সফর শেষ করে, যেখানে চীনের কাছে সাত গোল খাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও যুক্ত হয়। ঘরোয়া হকিতে নিয়মিত খেলার অভাবকে এই পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন টিটু। প্রথম বিভাগ লীগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা না থাকলে খেলোয়াড়দের মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।
আগামী ২৭শে অক্টোবর থেকে ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের জলন্ধর ও মোহালিতে বসবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসর। পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট থেকে নাম সরিয়ে নেওয়ায় খালি থাকা স্থানে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শক্তিশালী স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এরপর ২৯শে অক্টোবর জাপান, ৩০শে অক্টোবর মালয়েশিয়া, ১লা নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২রা নভেম্বর চীনের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। লীগ পর্বের খেলা শেষে ৪ঠা নভেম্বর সেমিফাইনাল এবং ৫ই নভেম্বর ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।






