
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ছয়জন সাহিত্যিককে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে ২০২৪ সালের জন্য এবং সেলিনা হোসেনকে ২০২৫ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থপ্রদান করা হয়। পোনা সংকটে বিপাকে গলদা চাষিরা, উৎপাদনে না ফিরলে বন্ধ হ্যাচারির লাইসেন্স বাতিল। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্লেন্ডারস চয়েস- ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস পেলেন যারা। গাজীপুরে গাড়িতে গুলি করে ৩ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ। এই পুরস্কার সেই স্বীকৃতি দানেরই একটা বিষয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে এই পুরস্কারের স্বচ্ছতা ও গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন, দেশের সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য সব সাহিত্য পুরস্কারের তুলনায় এটি তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'এখানে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করেনি। তারা মূল্যায়ন করে যাকে পুরস্কৃত করা দরকার, তাদেরকেই করেছেন। এখানেই এর সার্থকতা।' আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা।
তিনি শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় দলীয়করণের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'বিভাজন যেন আমাদের সাহিত্যজগতে, সৃষ্টিশীল জগতে না আসে।' সৃজনশীলতা চর্চার জন্য লেখকদের ন্যূনতম স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তরুণ লেখকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগকেও সাধুবাদ জানান। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় চিন্তার স্বাধীনতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন। আমরা বুঝতে পারছি যে এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আরও কিছু করার দায়িত্ব বেড়ে গেছে।
পুরস্কারের বিভাগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শ্রেণিতে আবুল আহসান চৌধুরীকে তাঁর ‘বিদ্যাসাগর বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ’ বইয়ের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণিতে ‘সময় বহিয়া গেল’ বইয়ের জন্য আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং তরুণ সাহিত্যিক শ্রেণিতে ‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ বইয়ের জন্য নিজাম বিশ্বাস পুরস্কার পেয়েছেন।
২০২৫ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শ্রেণিতে নাসরীন জাহানকে ‘পালকের চিহ্নগুলো’, কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণিতে শাহীন আখতারকে ‘মানচিত্র’ এবং তরুণ সাহিত্যিক শ্রেণিতে মাহবুব ময়ূখ রিশাদকে ‘সায়ানাইড ফুল’ বইয়ের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জন্য ৪৬০টি এবং ২০২৫ সালের জন্য ৫১০টি বই জমা পড়েছিল। জুরি বোর্ডে ছিলেন বেগম আখতার কামাল, ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, আবিদ আনোয়ার ও খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী লেখকদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ এবং কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণির বিজয়ীরা পেয়েছেন তিন লাখ টাকা করে, আর তরুণ সাহিত্যিক শ্রেণির বিজয়ী পেয়েছেন দুই লাখ টাকা পুরস্কার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, লেখকদের সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এই পুরস্কার একটি অনন্য নজির হয়ে উঠেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, এ আয়োজন তরুণ লেখকদের সৃজনশীলতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সাহিত্যচর্চা খুব লাভজনক পেশা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৃজনশীলতার তাগিদেই মানুষ সাহিত্যচর্চা করেন।
সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, ভালো সাংবাদিকতা চর্চায় সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রভাব অপরিসীম, তাই সমকাল বরাবরই দেশীয় সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করে আসছে। হা-মীম গ্রুপ ও টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, এই পুরস্কার আয়োজন কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি বড় সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। অনুষ্ঠানে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০