চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ব্যবসায়ীকে মারধর, দোকান ভাঙচুর ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ১৪ অক্টোবর গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছবুর পাটওয়ারী প্রকাশ রুবেল (৪০), যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) এবং আরিফ তপদার। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বায়নার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর জোর পূর্বক দোকান দখল করার উদ্দেশ্য জেলা সদর ও উপজেলার ছবুর পাটওয়ারী প্রকাশ রুবেল (৪০), জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) ও আরিফ তপদারের সহায়তায় বেশ কয়েজন উশৃংখল নেতাকর্মীদের শরীফুলের নেতৃত্বে গত ১২ অক্টোবর বিকাল দেশীয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এলাকায় কামাল হোসেন মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত ১২ অক্টোবর বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী কামাল হোসেন জানান, তার বাবার মালিকানাধীন এম.আর.কে ট্রেডার্স নামের দোকান ও জমি বিক্রয়ের চুক্তিবদ্ধ ছিলেন স্থানীয় শরীফুল ইসলাম। বায়নানামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা চালায়। এ সময় কামাল হোসেনকে মারধর ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। মামলার বাদী স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এলাকার শোশাইরচর গ্রামের কামাল হোসেন প্রকাশ্য মোস্তফা (৩৬)। অভিযোগে জানা গেছে, বাদীর বাবার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এম.আর.কে ট্রেডার্স দোকান, ভূমিসহ একটি পাকা বাড়ির অনুকুলে ব্যাংক কর্তৃক মরগেজ লোন গ্রহণ করেন। এতে, সম্পত্তির মূল্য এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে, দুই লাখ টাকা বায়নানামার মাধ্যমে স্থানীয় বালিথুবা গ্রামের আবু সাইদের ছেলে মামলার ১নং বিবাদী শরীফুল ইসলাম (৩৮) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চুক্তিবদ্ধ হন। এই সময় তারা আমাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিতে থাকে। একপর্যায়ে আমাকে টানা হেঁচড়া ও দোকান থেকে বের করে রাস্তার উপর বৈদ্যুতিক খুটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে গলা চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দোকানের ৪টি সিসি ক্যামেরা, স্কেল মেশিন ও সাটার ভাঙচুর করে। এ সময় ক্যাশ থেকে ৮০ হাজার টাকা, ব্যাংকের স্বাক্ষরিত ৪টি চেকের পাতা এবং কামাল হোসেনের ব্যবহৃত একটি সুজুকি মোটরসাইকেল লুট করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। মামলার বাদী কামাল হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও ডিবির একটি দল এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে। লোকজন ঘটনাস্থলে তাদের ভয়ে এগিয়ে না আসতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল দিলে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ এসে পাটওয়ারী বাজার কমিটির সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
এই ঘটনায় উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান টিপু দাবি করেন, দলের ওই চার নেতাকর্মী ঘটনার শেষের দিকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং মারামারির সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন না। তদন্তে যদি তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা আইনগতভাবে দেখা হবে বলে জানান তিনি। পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয় থাকলে আমাদের দেখার বিষয় না।’।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এরশাদ উল্লাহ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






