
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌথ মহড়া কাটছাঁট করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে এই যৌথ মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই যৌথ মহড়া খুবই ব্যয়বহুল। তিনি আরও বলেন, এই মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত এবং শত্রুভাবাপন্ন বার্তা পাঠায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর উত্তর কোরিয়া ‘কোনো হুমকি দেয়নি এবং সম্মানজনক আচরণ করেছে’ বলেও তিনি দাবি করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সঙ্গে আমার চমৎকার সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বলছি, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার যে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে করেছিল, তা নিয়ে আমি একেবারেই সন্তুষ্ট নই।” তিনি একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তুলে ধরে লেখেন, “আমি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তারা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানকে পরমাণুমুক্ত করার অভিযানে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে কিনা, কিন্তু তারা উত্তর দিয়েছে, ধন্যবাদ, আমাদের প্রয়োজন নেই!”
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, এই মুহূর্তে মহড়াটি পুরোপুরি বাতিল করা সম্ভব নয়। তাই তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এটি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার’ আদেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের পরিকল্পিত সামরিক মহড়া ‘পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই পরিচালিত হবে’।
উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা মোকাবিলা এবং নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতায় বলীয়ান উত্তর কোরিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই এই যৌথ মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, এটি মূলত উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণের প্রস্তুতি বা মহড়া। গত সপ্তাহেও উত্তর কোরিয়া এই অনুশীলনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর একটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছিল।
গত শুক্রবারে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা দিন দিন একটি পারমাণবিক জোটে রূপ নিচ্ছে। ফলে উত্তর কোরিয়া নতুন এই হুমকির জবাবে নতুন মাত্রার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর পরদিনই ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ছবিটি তোলার সময় দুজনের মুখ গম্ভীর দেখা গেলেও তাদের সম্পর্ক আসলে চমৎকার ছিল। উল্লেখ্য, নিজের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প কিমের সঙ্গে তিনবার সাক্ষাৎ করেছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া বন্ধ বা কমানোর উদ্যোগ ট্রাম্প এবারই প্রথম নেননি। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের পরও তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক মহড়াকে ‘খুবই ব্যয়বহুল’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশনার ফলে কোরীয় উপদ্বীপের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পেন্টাগন এখন ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মহড়ার পরিধি ও ব্যাপ্তি পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০