সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ
- সৌদি সরকারের বন্দি তালিকায় ২ বাংলাদেশির নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের কোনো তথ্য ছিল না।
- সংবিধান সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- ড্যাপ সংশোধন প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
- ক্যানসার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
- রংপুর অঞ্চলে পেশাদার ঢাকির সংকটে পূজা কমিটির সদস্যরা নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন।
রংপুরের গ্রামীণ জনপদে দুর্গাপূজার আয়োজনে পেশাদার ঢাকির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষ ঢাকির অভাবে অনেক মণ্ডপের পূজা কমিটির সদস্যরা বাধ্য হয়ে নিজেরাই ঢাক তৈরি করে বাজাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির কারণে পূজার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার সময়মতো সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
ঢাকিদের ভাষ্যমতে, সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকায় ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই শিল্পচর্চায় আগ্রহ খুবই কম। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রতি বছর আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ২০১০ সালের প্রায় ৩ হাজার সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। মণ্ডপ বাড়লেও সেই হারে ঢাকি তৈরি হয়নি, ফলে দুর্গাপূজার মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নামুড়িহাট কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরে গত কয়েক বছর চুক্তিতে ঢাকি আনা হতো। তবে এবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো পেশাদার ঢাকি না পাওয়ায় মন্দির কমিটি ৬ হাজার টাকা খরচ করে নতুন ঢাক তৈরি করেছে। কমিটির সদস্য নির্মল চন্দ্র রায় জানান, একজন ঢাকিকে পূজার সময় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হয়। এখন সদস্যরা পালা করে নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন। এতে কিছু টাকা সাশ্রয় হলেও অনেক সময় আরতি বা গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার সময় ঢাকের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না, যা পূজার ছন্দকে বিঘ্নিত করছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গারডাবরী এবং রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামের দুর্গামন্দিরগুলোতেও একই সংকট দেখা দিয়েছে। সিঙ্গারডাবরী মণ্ডপে গত বছর ১৩ হাজার টাকায় ঢাকি পাওয়া গেলেও এবার তা সম্ভব হয়নি। শেষে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ঢাক কিনে কমিটির সদস্যরা নিজেই দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির সদস্য অবিনাশ চন্দ্র বর্মণের মতে, স্থানীয়রা ঢাক বাজালেও পেশাদার ঢাকিদের মতো তাল ও ছন্দ বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
অভিজ্ঞ ঢাকি বাবুল চন্দ্র দাস, যিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লালমনিরহাট শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি বলেন, অধিকাংশ গ্রামে এখন নির্ধারিত ঢাকি নেই। দুর্গাপূজা এলে ঢাকিদের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শহরে ঢাকিরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মজুরি পেলেও গ্রামে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় কাজ করতে হয়। মূলত সারা বছর কাজ না থাকায় এবং মজুরি বৈষম্যের কারণে এই পেশাটি হারিয়ে যেতে বসেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে অনেক ঢাকি ও মন্দির কমিটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।






