গত জুলাই মাসে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স হকি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-৫০ দলের হয়ে অংশ নিতে গিয়েছিলেন ১৮ জন খেলোয়াড়। তবে আসর শেষে দেশে ফেরার তালিকায় ছিল না বাচ্চু গাজী ও অনিক ইসলাম নামের দুই খেলোয়াড়ের নাম। হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্সের অভিযোগ, এই দুই খেলোয়াড় দেশে না ফেরায় ইউরোপের দেশগুলোতে খেলোয়াড়দের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও এখন জার্মানির ভিসা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরিফুল হক প্রিন্স জানান, ১৮ সদস্যের ওই দলে ১০ জন বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন, আর বাকিরা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী। এই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা মারাত্মক সংকটের মধ্যে পড়েছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এখন আমাদের খেলোয়াড়দের ভিসা দিতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও জবাব চাওয়া হয়েছে, কারণ ওই খেলোয়াড়রা সরকারি আদেশে বিদেশে গিয়েছিলেন।’ আগামী ১৫ অক্টোবর দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া আগের অ্যাডহক কমিটির সময়ে নেদারল্যান্ডসে দল পাঠানোর ক্ষেত্রে আর্থিক কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করার প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন বাংলাদেশ থেকে, বাকিরা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। বিষয়টি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও জানতে চেয়েছে।
তবে বিষয়টিতে ভিন্নমত জানিয়েছেন ভেটেরান হকি খেলোয়াড় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাজা লতিফ মুন্না। তাঁর ভাষ্যমতে, বাচ্চু গাজীর আগে থেকেই ইংল্যান্ডের ভিসা ছিল এবং তিনি নেদারল্যান্ডস থেকে সেখানে গিয়েছেন। অনিক ইসলামের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের ঘটনার কারণে ফেডারেশনের ভাবমূর্তি সংকটের পাশাপাশি জাতীয় দলের বিদেশ সফরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।





