বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স এখন এক অন্তহীন উদ্বেগের নাম। প্রতিপক্ষ কিংবা টুর্নামেন্ট বদলালেও টাইগ্রেসদের ব্যাটিং লাইনের নিয়মিত ধস ঠেকানো যাচ্ছে না। মাঠে নামার আগে যে স্বপ্ন নিয়ে সমর্থকরা টিভির সামনে বসেন, পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই সেই আশা ডট বলের আধিক্যে ফিকে হয়ে যায়।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্বল কাঠামোর দিকে আঙুল তুলছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন বাউন্স ও সুইং সামলানোর প্রস্তুতি ঘরোয়া আসরগুলোতে একেবারেই অনুপস্থিত। দেশের মাটিতে কোনোমতে রান পেলেও বিশ্বমঞ্চে বিদেশি বোলারদের সামনে ব্যাটাররা অসহায় হয়ে পড়েন।
আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে স্ট্রাইক রোটেট করা অপরিহার্য, সেখানে আমাদের ব্যাটাররা সিঙ্গেলস নিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। বাউন্ডারির দেখা পাওয়া তো অনেক পরের বিষয়। এছাড়া অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ডকে নড়বড়ে করে তুলেছে। তিনি আউট হওয়া মানেই বাকিদের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া।
বিসিবি নিয়মিত কোচ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে আসলেও এর সুফল মিলছে না। গোড়ায় গলদ রেখে ডালপালা ছাঁটাই করার এই প্রক্রিয়া কার্যত ব্যর্থ। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বদলে কেবল সাময়িক সমাধানে মনোযোগ দেওয়ায় ব্যাটিংয়ের চিত্র বদলাচ্ছে না।
এই সংকট উত্তরণে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি পাওয়ার হিটিং কোচ নিয়োগ এবং বয়সভিত্তিক বা ‘এ’ দলকে বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার মতো মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিতে হবে।
এদিকে সমসাময়িক অন্য কিছু ঘটনার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, বাংলাদেশ নারী দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াই করলেও স্বর্ণার অর্ধশতক বৃথা গেছে। বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলছে দল। অন্যদিকে এশিয়ান গেমসে চীন মাঠে না আসায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ।
দেশের অন্য প্রান্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেল স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছে, যার জেরে চার রেলকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি আরব ২৮টি হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
এই সব ঘটনার ভিড়ে নারী ক্রিকেটের এই করুণ চিত্রটি বারবার সামনে আসছে। যদি এখনই সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে এই ব্যাটিং ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ হতেই থাকবে, যা নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ২৮ হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব, দাবি হুতিদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সহপাঠীকে মারধরের প্রতিবাদে রাবি শিক্ষার্থীদের রাজশাহী স্টেশন ভাঙচুর, ৪ রেলকর্মী বরখাস্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মিরপুরের স্টেডিয়াম কিংবা হোম অব ক্রিকেটের সবুজ গালিচায় একটা দৃশ্য বড্ড পরিচিত—ম্যাচ শেষ, সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়কের সেই চেনা দীর্ঘশ্বাস, আর স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করা একটা মামুলি রান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ঘুরেফিরে ঠিক এই একটা গল্পই বারবার মঞ্চস্থ হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ভক্তদের মনে যে আশার সলতেটুকু জ্বলে ওঠে, পাওয়ারপ্লে পার হতে না হতেই তা নিভে যায় ডট বলের অনাবিল বন্যায়।






